Monday, April 15, 2024
spot_img
Homeরাজ্যঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

রবিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকা। পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম কয়েকশো জন। হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘরবাড়ি হারিয়েছেন বহু মানুষ।ঘটনাচক্রে, রাজ্যে প্রথম দফার ভোট আগামী ১৯ এপ্রিল। যে তিনটি আসনে ভোট, তার মধ্যে জলপাইগুড়ি অন্যতম। ফলে প্রত্যাশিত ভাবেই রাজনৈতিক শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত যুযুধান দুই শিবিরের নেতারা গিয়েছেন জলপাইগুড়িতে। তবে সকলের আগে পৈঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ ভাবেও মমতা চির দিনই সশরীরে মানুষের পাশে থেকেছেন। সে ভোট হোক বা না-হোক। ফলে রবিবার রাতে তিনি দ্রুত পৌঁছে যান জলপাইগুড়িতে। রাত প্রায় আড়াইটে পর্যন্ত দুর্গত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। কথা বলেন। যান হাসপাতালেও।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

সোমবার দুপুরে কপ্টারে করে মুখ্যমন্ত্রী যান পাশের জেলা আলিপুরদুয়ারে। সেখানেও রবিবারের ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। সেসব পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের সব অভাব, অভিযোগ শুনে আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরই তাঁর বক্তব্য, ”বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসন ভালো কাজ করছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ, খাবারের ব্যবস্থা করেছে। যদিও এখন ভোটের সময়, আদর্শ আচরণবিধি লাগু রয়েছে।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

কিন্তু এখন বিপদের সময় কি আর আচরণবিধি মেনে চলা যায়?” গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও মজা করেছেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। আর তা নিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে অভিষেক সুর চড়িয়ে বলেন, ‘‌প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারও হাতে থাকে না। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এখানে। মুখ্যমন্ত্রী রাতেই এখানে পৌঁছন। অতন্দ্র প্রহরীর মতো তিনি পাশে ছিলেন মানুষের।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে ২০১৯ সালে বিজেপি জিতেছিল। সাংসদ ছিল বিজেপির। তাঁরা মানুষের পাশে কোনও দিন থাকেনি। যাঁরা এসব নিয়ে ব্যঙ্গ করছে তাঁদের প্রকৃত চেহারা মানুষের সামনে খুলে গিয়েছে। বিজেপির ঝড় চলছে বলছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’‌ বিজেপি নেতাদের তুলোধনা করে অভিষেকের বক্তব্য, ‘‌এখানের যাঁরা মায়েরা, দিদিরা, বৌদিরা ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা দেখুন। কলকাতা থেকে ৬২০ কিমি দূরত্ব থাকলেও রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে পৌঁছেছেন।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

সেখানে বালুরঘাট থেকে জলপাইগুড়ির দূরত্ব ৩০০ কিমি। চার ঘণ্টার রাস্তা। সুকান্ত মজুমদার রাতে আসতে পারতেন না?‌ আপনি চাইলে ৯টার মধ্যে পৌঁছতে পারতেন। বিজেপির নেতারা রাজনীতি করছে। কোনও কাজ করেনি। গত পাঁচ বছরে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে?‌ হয়নি। দেখাতে পারবেন না। দিল্লি থেকে কোনও প্যাকেজ নিয়ে এসেছে?‌ আচ্ছে দিনের নাম করে ভোট নিয়েছিল। আজ মানুষ বুঝতে পারছে। তাই ব্যালটে জবাব দেবেন তাঁরা।’‌

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

পাশাপাশি এত ক্ষতির জন্য কেন্দ্রকেই নিশানা করলেন অভিষেক। বললেন, সকলে আবাস যোজনার ঘর পেলে এত ক্ষতি হত না। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে দুর্যোগধস্ত জলপাইগুড়ির মানুষকে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে বিজেপির কোনও প্রথম সারির নেতা রাতেই সেখানে পৌঁছতে পারেননি। সোমবার দুপুরে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন হাসপাতালে গিয়ে দুর্যোগে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

সকলের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। আশ্বাস দেন পাশে থাকার। এর পর সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বার্নিশে। কথা বলেন সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। ত্রাণ শিবিরেও যান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ফোন করে ফোন করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক্স হ্যান্ডেলে সোমবার অমিত শাহ লেখেন, ‘ঝড়ের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং মণিপুরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’ উল্লেখ্য, শাহ পোস্টটি করেছেন বাংলায় ভাষায়। বাংলা হরফে।
অনেকেরই বক্তব্য, এ সবই আসন্ন লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে। এটি আসলে ঝড়-রাজনীতি। এই ঝড়ের কাছেই রাখা আছে ভোটের ঠিকানা! যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোমবার বলেন, ‘‘অন্যেরা কী করত বলতে পারব না, তবে মমতা’দি চিরকালই এটা করে এসেছেন।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

সেই কারণেই তিনি জননেত্রী।’’ উদাহরণ দিয়ে কুণাল বলেন, ‘‘২০১১ সালে ভবানীপুর উপনির্বাচনের সময়ে কালিম্পংয়ে ভূমিকম্প হয়েছিল। প্রচার ফেলে প্রার্থী মমতা’দি সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।’’ তৃণমূলের অন্যান্য নেতারও বক্তব্য, কোনও ঘটনা ঘটলে অব্যবহিত পরেই অকুস্থলে পৌঁছে যাওয়া মমতার সহজাত। সেটি তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। সম্প্রতি বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনার পরের সকালেই মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও গার্ডেনরিচে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঝড়ে লন্ডভন্ড উত্তরবঙ্গ, গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মমতা, খোঁজ নিলেন মোদী- শাহও

ফলে তিনি যে ঝড়-বিধ্বস্ত মানুষের কাছে যাবেন, তা একপ্রকার স্বতঃসিদ্ধ।বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘বাংলায় বিজেপি যখন ১ শতাংশের পার্টি ছিল, তখনও আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতাম। আমাদের পারিবারিক সংগঠন এই ধরনের দুর্যোগের পর চিরকাল মানুষের পাশে থেকেছে। ভোট দেখা হয়নি।’’ আবার সিপিএম নেতা তথা দমদম লোকসভার প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘এখনও সারা বছর সবচেয়ে বেশি রক্তদান শিবির করে আমাদের ছাত্র-যুব সংগঠন।

 

আমপান, যশের পরে যখন তৃণমূল ত্রাণের ত্রিপল লুট করেছিল, তখন বামপন্থীরা ত্রাণ সংগ্রহ করে সেখানে পৌঁছে দিয়েছিল। ভোট দেখে বাকিরা করতে পারে, বামপন্থীরা করে না।’’তবে শুধু রাজনৈতিক নেতারা নয় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও।

Most Popular