Sunday, July 21, 2024
spot_img
spot_img
Homeদেশদেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

লোকসভা ভোটের আগে গোটা দেশ চালু হয়ে গেল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)। সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিএএ চালু হওয়ার কথা জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিল মোদী সরকার সেটাই যেন এবার রূপ পেল লোকসভা ভোটের আগে।দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর সিএএ পাশ করিয়েছিল কেন্দ্রের মোদী সরকার।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

ওই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে এ দেশে আশ্রয় চান, তা হলে তা দেবে ভারত। সংসদের দু’কক্ষে পাশ হওয়ার পরে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও অনুমোদন দিয়েছিলেন সিএএ বিলে। কিন্তু এত দিন ধরে সিএএ কার্যকর করা নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশে সিএএ কার্যকর হবে। শুধু তা-ই নয়, শাহ এ-ও বলেছিলেন, শীঘ্রই সিএএ কার্যকরের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাবে।তবে মতুয়া অধ্যুষিত নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার সভায় এসে সিএএ নিয়ে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেছিলেন, ‘‘ভোটের আগে সিএএ কার্যকর হচ্ছেই।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

ভোট ঘোষণার এক-দু’দিন বা তিন দিন আগে হলেও সিএএ কার্যকর হবে। এমনকি, নির্বাচন বিধি চালু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেও সিএএ কার্যকর হতে পারে।’’ সিএএ কার্যকর করা নিয়ে দীর্ঘ দিন কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেই টালবাহানা চলছিল। অন্যদিকে, করোনা পর্বের আগে থেকেই দেশের নানা প্রান্তে সিএএ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সারা দেশে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ যায় প্রায় ১০০ জনের। বিজেপি বিরোধী দলগুলিই এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মতো বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সিএএ কার্যকরের বিরোধী। এখনও পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। তার আগেই গোটা দেশে চালু হয়ে গেল সিএএ।বিল পাশ হওয়ার পর চার বছর পর চালু হল হল সিএএ।আজ থেকে বাসিন্দারা এনিয়ে আবেদন করতে পারবেন।কীভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফিগানিস্তান থেকে আসা মানুষ ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৪র আগে এসেছিলেন তাঁরা কীভাবে নাগরিকত্ব পাবেন সেটা জানা যাবে এবার।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

এনিয়ে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে তাঁদের। একজন ব্যক্তি পরিবারের বাকিদের জন্য় আবেদন করতে পারবেন।পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যে সিএএ আইন কার্যকর হওয়া লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে বড় অস্ত্র হতে চলেছে৷ বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের অনুকূলে টানতে সিএএ আইন বিজেপির প্রচারের বড় অস্ত্র হতে চলেছে৷লোকসভা ভোটের মুখে কার্যত মাস্টার স্ট্রোক দিলেন মোদী।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

ওপার বাংলা থেকে লক্ষ লক্ষ শরনার্থী এদেশে এসেছিলেন। তাঁরা এতদিন নানা দোলাচলে ছিলেন। এবার স্বস্তি পাবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ঠাকুরনগরে শুরু হয়ে গিয়েছে উল্লাস। তাঁরা জানিয়েছেন, আজ আনন্দের দিন। আজ আমাদের খুশির দিন। মনে হচ্ছে যেন স্বাধীনতা পেলাম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধীরা বার বারই সিএএ-এর বিরোধিতা করে এসেছেন৷

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

এদিন সিএএ লাগুর আগেই নবান্নে বসে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, “এটা ছেলের হাতে মোয়া। ভোটের আগে বিজেপির ললিপপ সিএএ। কোনও বৈষম্য হলে মানব না। যদি একটা ক্যা করে বলেন আপনি নাগরিক তাহলে কি নাগরিক ছিলেন না এতদিন। কেন তাদের আধার কার্ড বাতিল করছিল? আমাদের থিওরি হল সবাই নাগরিক।”

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

নবান্ন থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি, “সকলকে বলব ভয় পাবেন না, চিন্তা করবেন না। আধার কার্ড যখন বাতিল হচ্ছিল, আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। আজও যদি কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় তৃণমূল একমাত্র দল সর্বপ্রথম আওয়াজ তুলবে, আলোড়ন তুলবে। তারই সূচনা আমি এখনই করে দিয়ে গেলাম। কারণ মধ্য রাতের মধ্য গগনে কী ফুল ফুটবে তো আমরা জানি না। তাই আগাম বলে গেলাম সন্ধ্যাবেলায়।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

নতুন সন্ধ্যা শুরুর আগে বলব, মধ্যরাতে এমন কিছু করবেন না। এটা ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট নয়। সাহস থাকলে ৬ মাস আগে দিতেন। ৪ বছর অপেক্ষা করতে হল কেন?দেশের কিছু ভাল হলে আমরা যেমন অভিনন্দন জানাই। তেমনই দেশের কোনও খারাপ হলে আমরা তা সাপোর্ট করতে পারি না। আমি বলব, ভয় পাবেন না।” তবে এখনই কোনও বড় মন্তব্য করতে রাজি নয় মুখ্যমন্ত্রী।

দেশজুড়ে লাগু হল সিএএ, ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন মমতা

বলেন, “পুরো রিপোর্ট দেখার পর, কাগজ হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত কাল হাবরার মিটিং থেকে বলব। যদি কোনও রকম বৈষম্য থাকে আমরা মানি না।” যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশ্য বার বার দাবি করেছেন, সিএএ নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য কার্যকর করা হচ্ছে, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়৷

Html code here! Replace this with any non empty raw html code and that's it.

Most Popular

error: Content is protected !!