Monday, April 15, 2024
spot_img
Homeজেলাপায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন...

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

বান্টি মুখার্জি, বাসন্তী: ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ৮টা ছুঁই ছুঁই। সাইকেল চালিয়ে রওনা দিয়েছেন জনৈক ব্যক্তি। দেখলেই মনে হবে, সাধারণ একজন গ্রামের মানুষ! মনে হতে পারে, যেন নিত্যদিনের কাজের খোঁজে বেরিয়েছেন। কিন্তু তিনি বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছে গিয়ে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখ, চাওয়া পাওয়ার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

কখনও যক্ষ্মা রোগীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন, সরকারি পরিষেবা কিংবা অনুদান সঠিক সময় পাচ্ছেন কি না। কখনও আবার অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে ঢুঁ মারছেন।সেখানে শিশুদের খাবারের গুণগত মান ঠিক রয়েছে কি না, নিজেই চেখে পরীক্ষা করছেন।পড়াশোনা ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করছেন।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

কখনও আবার ঝাড়ুদারের হাত থেকে ঝাড়ু নিয়ে ঝাঁট দিয়ে তাঁদেরকে সাহায্য করছেন।এমন মানুষকে দেখে অনেকেই চিনতে পারছেন না।কেউ কেউ বলছেন, বার্ধক্য ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার জন্য একাধিকবার ব্লক অফিসে গিয়েছি। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আচমকা এক ব্যক্তি সকাল সকাল সাইকেল চালিয়ে আসছেন।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

খোঁজ নিচ্ছেন কারও কোনও অসুবিধা রয়েছে কি না। বলে দিয়েছেন, যদি সমস্যা থাকে কিংবা কোনও সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে সমস্যা হয়, তাহলে ব্লক অফিসে গেলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাঁদের আরও দাবি, যেখানে পাড়ার মোড়ল মাতব্বরদের পায়ে তেল মাখিয়ে বিধবা কিংবা বার্ধক্য ভাতা মেলেনি, সেখানে অপরিচিত এক লোক পাড়ায় পাড়ায় হাজির হয়ে বলেছেন, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ব্লক অফিসে গেলে।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

কখনও পায়ে হেঁটে আবার কখনওবা সাইকেল চালিয়ে পাড়ায় পাড়ায় এমন কথা বলে বেড়াচ্ছেন। লোকটা সম্ভবত পাগল হবে!
পরে অবশ্য গ্রামের মানুষের ভুল ভেঙে গিয়েছে। তাঁরা জানাতে পারেন, যে ব্যক্তি পাড়ায় পাড়ায় হাজির হয়ে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনছেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন, তিনি আর কেউ নন।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

তিনিই স্বয়ং বাসন্তী ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জীব সরকার। এই খবর এলাকায় চাউর হতেই বাসন্তী ব্লক অফিসে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ ১০ কিংবা ১৫ বছর দৌড়ঝাঁপ করেও যে যে সমস্যা মেটেনি, তা মিটে যাচ্ছে দুই কিংবা তিন দিনেই।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

বাসন্তী ব্লকের কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিরা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিদিনই সকালে কোনও না কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়ে নতুন বিডিও খোঁজখবর নিচ্ছেন। সমস্যা থাকলে তা সমাধানের পথ বাতলে দিচ্ছেন। আমাদের বিভিন্ন সময়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

তার জন্য সিডিপিও কিংবা বিডিওকে জানানোর জন্য অফিসে যেতে হত। বর্তমানে খোদ বিডিও সাহেব আমাদের কেন্দ্রে হাজির হয়ে সুবিধা অসুবিধার কথা জানতে চাইছেন। বিডিও সাহেবের এমন উদ্যোগের তুলনা হয় না। বিগত দিনে বাসন্তী ব্লকে কেন, সমগ্র ক্যানিং মহকুমা এলাকায় এমন বিডিও ছিলেন বলে মনে হয় না।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

বাসন্তী ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জীব সরকার বলেন, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক হয়ে যদি সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখ না বুঝতে পারি, তাহলে উন্নয়ন হবে কী করে? আমি আমার মতো করে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের কথা জানতে প্রায় প্রতিদিনই সকালে একাই বেরিয়ে পড়ি।

পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেল চালিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন খোদ বাসন্তীর বিডিও

কখনও পায়ে হেঁটে আবার কখনও বা ১০/২০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে যাই গ্রামের মানুষের কাছে। এটা আমার নিত্যদিনের রুটিন। এটা আমার কর্তব্য। তারপর অফিসে গিয়ে সমস্ত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি।

Most Popular