Wednesday, February 28, 2024
Homeরাজ্যআরাবুল কে গ্রেফতার এর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে, শুরু জল্পনা

আরাবুল কে গ্রেফতার এর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে, শুরু জল্পনা

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা:
বেশ কয়েকমাস ধরে কোনও বির্তকের ভিতর ছিলেন না আরাবুল ইসলাম।  তা সত্ত্বেও ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল ইসলাম কে এক বছর তথা ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভাঙড়ে আইএসএফ এর কর্মী খুনের ঘটনাতে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার করল সদ্য হাতে পাওয়া কলকাতা পুলিসের অধীন কাশীপুর  থানা । প্রশ্ন হল কেন এতদিন পর আরাবুল কে ধরা হল? যদি বাস্তবে আরাবুলের দোষ ছিল তাহলে পুলিস এতদিন আইনি পদক্ষেপ নেয়নি কেন? কলকাতা পুলিশের ব্যাখ্যা হল, এতদিন এটা দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা পুলিসের হাতে ছিল। ফলে এর দায় তাদের নয়। জেলা পুলিসের। এখন তাদের হাতে আসার পর ওই কেস এর গুরুত্ব বুঝে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কলকাতা পুলিসের এমন সরল ব্যাখ্যা আমজনতার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। কারণ পুলিসের কলকাতা ও জেলা যাই বিভাজন থাক, তার মন্ত্রী একজন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চাইলে আরাবুল কে ধরার জন্য ওই সময় পুলিসকে নির্দেশ দিতে পারতেন। তা কিন্ত হয়নি। তাহলে এতদিন পর কেন হল। এটাও তাঁর নির্দেশে হয়েছে। কেন? সরকারি ও শাসক দল বলছে রাজধর্ম পালন হল। বেশ ভাল কথা। তাহলে আরাবুলের চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে  খুন, জমি দখল সহ  বহু অভিযোগে অভিযুক্ত সন্দেশখালির শাজাহান। সর্বশেষ হল ইডি র আধিকারিকদের উপর হামলা।  সেই শাজাহান এর বিষয়ে রাজধর্ম পালনে পুলিস সক্রিয় নয় কেন? দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় শাসক দলের এমন অনেক শাজাহান রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ কখনও নেওয়া হয়নি। কেন? শুধু এক আরাবুল কে বার বার গরাদে পুরে লাভ কি হচ্ছে? এতে সত্যিই কি রাজধর্ম পালন হচ্ছে? তা হলে এর আগেও ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত খুন, হামলা, জুলুম সহ নানা অভিযোগে এ নিয়ে পাঁচবার গ্রেপ্তার করা হল আরাবুল কে। দীর্ঘদিন জেলে ও রাখা হয়েছে তাকে। তাতে তার কি শিক্ষা হয়েছে।  এটা ঠিক প্রতিটি ঘটনার পর তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ধীরে ধীরে খর্ব হয়েছে। একসময় যারা তার হাত ধরে তাকে সামনে রেখে দাদাগিরি, তোলাবাজি ও খুনের বাতাবরণ তৈরি করেছিল। তাদের অনেকে এখন আড়ালে আবডালে আরাবুল বিরোধী হয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। আরাবুল কে সমর্থন জানানোর জন্য এত কথা নয়। কারণ এটাও বাস্তব আরাবুল এক সময় নিজের দাপট ও দাদাগিরি বজায় রাখার জন্য অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেছে। এজন্য অনেক অভিশাপ ও কুড়িয়েছে। এখনও তার খেসারত দিতে হচ্ছে তাকে। তবে ভাঙড়ে  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে হয়েছে এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে। যা সাদা চোখে বোঝা যাচ্ছে না। এই ঘটনার ভিতর দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার একটা চাল দেখতে পাচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এক, আরাবুল ইসলাম এখন নখদন্তহীন। তাকে জেলে পুরে দিলে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। কারণ ভাঙড়ে আগের সেই দাপট তার নেই। ফলে তাকে বাইরে রেখে কোনও লাভ নেই। বরং তাকে গারদে রাখলে লাভ। তা হল এবার বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি কে ধরার ব্যাপারে পুলিসের সুবিধা হবে। কারণ ২০১৩ সালের ঘটনায় দু জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছিল। আরাবুলের গ্রেফতার কে দেখিয়ে নওশাদ কে ধরলে হইচই হবে না।  নওশাদ কে গরাদের ভিতরে ঢোকাতে পারলে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে নওশাদ সিদ্দিকি র দাঁড়ানোর বিষয় টি হোঁচট খাবে। তাতে করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের কাঁটা দুর্বল হয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায়, এর বাইরে আরও একটা ছক রয়েছে। তাহল আরাবুল কে জেলে পাঠিয়ে এবার চিরতরে তার রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করে দেওয়া হবে। সেখানে উঠে আসবে সওকাত শিবির। যা ইতিমধ্যেই ভাঙড় এক এ হয়েছে। এবার ভাঙড় দুই এ হতে যাচ্ছে। যা শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা।

Most Popular

error: Content is protected !!