Saturday, April 13, 2024
spot_img
Homeদেশরামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা :
সোমবার দুপুরে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল অযোধ্যায়। আর সন্ধ্যায় রাজধানী লক্ষ্ণৌ জুড়ে হল দ্বিতীয় দীপাবলী।
আলোর মালায় অলিগলি থেকে মহল্লা আর রাজপথ সেজে উঠেছিল। প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে।
আতসবাজি নিয়ে মহিলা, পুরুষ ও কচিকাচাদের দল রাস্তায় নেমে আসে। তাতে অংশ নিয়ে মাতোয়ারা ছিল সকলে।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

আকাশ জুড়ে নানা ধরণের আলোর রোশনাইয়ে দীপাবলীর চেহারা নিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী হল লক্ষ্ণৌ শহর। সেই
শহর থেকে অযোধ্যার দূরত্ব ১৩৬ কিলোমিটার। কিন্তু দূরত্ব কোনও বাঁধা মানেনি। বরং অযোধ্যার আনন্দযজ্ঞের
ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছিল রাজধানী লক্ষ্ণৌ শহরে। যা দেখে মনে হতে পারে, অযোধ্যা খুব কাছেই।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

এদিন সকাল থেকে অযোধ্যায় রাম মন্দির ও পুরুষোত্তম রাম এর প্রাণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে যে উল্লাস ও বড় বড় ভিভিআইপি, অতিথি ও অভ্যাগত মানুষের সমাগমে সকলের চোখে মুখে ছিল খুশির ঝিলিক। সকলের ভিতর প্রশান্তি দেখা গিয়েছে রামলালার
দিকে তাকানোর পর। এত সুন্দর তাঁর মুখঅবয়ব, মনে হয় যেন টানছে।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

সেই অনুভূতি হয়েছে বিগবি অমিতাভ বচ্চন, অনুরাধা পাড়োয়াল, রজনীকান্ত থেকে মুকেশ আম্বানী দম্পতির। কেউ অনেকক্ষণ কোনও কথা বলতে পারেননি। এতটা সৌভাগ্য না হলেও লক্ষ্ণৌ শহরের প্রতিটি মানুষ কিন্তু এদিন সকাল থেকে অযোধ্যার মন্দিরে যা যা নিয়ম পালন হয়েছে, তা মেনে রাম, লক্ষণ ও সীতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

লক্ষ্ণৌ শহরের পশ এলাকা হল হজরত গঞ্জ।কলকাতার পার্ক স্ট্রীট বলা হয় তাকে। সেখানকার এক বড় ব্যবসায়ী বলেন, এদিন শহরে সমস্ত দোকান, বাজার, স্কুল, কলেজ থেকে অফিস, আদালত সব বন্ধ ছিল। ভোর থেকে বড় আবাসন থেকে সমস্ত বাড়ির মহিলারা উপোস করে মাথায় কলস নিয়ে রাম সীতা ছবি হাতে পদযাত্রা করে।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

রাস্তায় রাস্তায় এই কলসযাত্রা ছিল এদিন দেখার মতো।শহরের দোকান, বাজার, বাতিস্তম্ভ এ ছিল রাম সীতা নাম লেখা পতাকা। চারপাশ ছিল রাম-সীতার ছবি। অযোধ্যায় যাওয়ার প্রধান ফৈজাবাদ রোডের উভয় দিকে দেওয়াল জুড়ে রাম-সীতা ও লক্ষ্ণণ এবং হনুমানের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল। প্রতিটি ঘরে ঘরে হয়েছে রাম সীতার পুজো।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

এদিন দুপুরে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও পুজো যখন হয়, সেই সময় মেনে এখানে পুজো হয়েছে। এরপর রাস্তায় রাস্তায় ভান্ডারা কেউ পুরী, আলুসবজি, খিঁচুড়ি প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করেছে। এটা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলেছে। সন্ধ্যার পর থেকে ঘরের বাইরে প্রদীপ জ্বলেছে।টুনির আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে রাস্তার ধার থেকে বড় বড় আবাসন।

রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনন্দে লক্ষ্ণৌ শহরে দ্বিতীয় দিপাবলী

সব জায়গাতে একটাই নাম রাম-সীতা ও লক্ষণের। অলিগলিতে শুধু রামের কথা। দিনের আলো শেষ হতেই আলো আর শব্দবাজিতে মেতে ওঠে গোটা শহর। কে বলবে এখন দীপাবলী নয়। কিন্তু বাজির শব্দ আর রোশনাইয়ে দ্বিতীয় দিপাবলী হয়ে যায় লক্ষ্ণৌ শহর।

Most Popular