Thursday, May 23, 2024
spot_img
spot_img
Homeরাজ্যবুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার: অবসরের বয়স পেরিয়ে গেছে, তারা প্রত্যেকেই এখন প্রবীণ নাগরিক। এমন বয়সে প্রাথমিক স্কুলে চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেলেন হুগলির ৬২ জন।শুধু তাই নয় এমন চারজন নিয়োগ পত্র পেয়েছেন যাদের মৃত্যু হয়েছে আগেই। আর এনিয়েই এখন শোরগোল পরেছে হুগলি জেলা জুড়ে। জানা গিয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের চাকরি মেলেনি বাম আমলে।

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

পরে নাকি প্যানেলই বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল! আইন-আদালতের দরজায় কড়া নেড়েও সুরাহা হয়নি। স্রেফ অপেক্ষাতেই এতগুলি বছর কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। এখন সকলেই ৬০ অতিক্রম করেছেন। এত বছর পর যখন অবশেষে নিয়োগপত্র হাতে পেলেন, অবসরের বয়সই পেরিয়ে গিয়েছে তাঁদের!

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

এই বয়সে নিয়োগপত্র পেয়ে স্বাভাবিক ভাবে হতচকিত সেই সব প্রবীণ নাগরিকেরা। খোঁজ নিতে কেউ ছুটে গিয়েছেন নিয়োগপত্রে উল্লিখিত স্কুলে। কেউ আবার সার্কল অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন।নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার সার্কলে চাকরিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন পাণ্ডুয়ার দীনবন্ধু ভট্টাচার্য। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সেই সময় বামফ্রন্ট সরকার ছিল।

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলাম। কিন্তু চাকরি পাইনি। পরে প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। এত দিন পর শিক্ষা সংসদ নিয়োগপত্র পাঠাল। কী করে এটা হয়, বুঝতে পারছি না।’’ নিয়োগপত্র পাওয়া ৭১ বছরের বৃদ্ধ অচিন্ত্য আদক জানান, “চাকরি না মেলায় তাঁরা ১৯৮৩ সালে মামলা করেছিলেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এখন কী করে সেই চাকরি দেওয়া হয়।” তিনি বলেন, ‘‘ষাট বছরে তো অবসর হয়। এই বয়সে কী করে চাকরি করব?’’

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

এদিকে এই ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাম প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ। এবিপিটিএর কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহন পন্ডিত বলেন, সারা ভারত বর্ষে এই ধরনের ঘটনা হয়নি। অবসরের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর চাকরির নিয়োগ পত্র দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে ৬০ বছর বয়স হল অবসরের। সেখানে ৬৫-৭০ বছর বয়সিদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

অনেকেই আমাদের ফোন করছেন। প্রধান শিক্ষকরা জয়েন করতে দেননি। ১৯৮৩ সালে শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কিন্তু চাকরি পাননি। তারা আদালতে মামলা করেছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে তারা এফেক্ট পাবেন।চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরই চাকরি চলে যাবে এবং পঞ্চাশ লাখ টাকা করে পাবে। এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। আমরা তদন্ত চাই বিষয়টার সত্য উদঘাটিত হোক।

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

এ নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফে এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো না হলেও সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই মতোই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে ৬৬ জনকে। তাঁদের চাকরিতে নিয়োগ কার্যকর হয়েছে ২০১৪ সালের ৮ অগস্ট থেকে।

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

এদিকে এ নিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা।বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, ‘মারা গেছে এমন লোককেও নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কারোরই চাকরির বয়স নেই। এমন একটা অকর্মণ্য সরকার চলছে যদের কাছে কোনও খবরই নেই কে মারা গেল কে জীবিত আছে।

বুড়ো বয়সে, মৃত্যুর পরেও চাকরি পেলেন ৬৬ জন! বিতর্ক

হাইকোর্টে শিক্ষা সংসদের আইনজীবী ছিলেন সেখানে কেন আপডেট তথ্য দেওয়া হয়নি।জনগনের টাকা এই ভাবে অপচয় হচ্ছে।’ যদিও এই বিষয়ে হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন,আদালত যে রায় সেটাকে কার্যকর করা দায়িত্ব। সেই রায়কে কার্যকর করেছে দফতর।

Most Popular

error: Content is protected !!