Tuesday, February 27, 2024
Homeরাজ্যইনসাফের ব্রিগেড থেকে লড়াইয়ের ডাক মীনাক্ষীদের

ইনসাফের ব্রিগেড থেকে লড়াইয়ের ডাক মীনাক্ষীদের

সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর ৫০ দিনের ‘ইনসাফ যাত্রা’ শেষ হয়েছিল গত ২২ ডিসেম্বর। এরপর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রবিবার ব্রিগেডে হল ‘ইনসাফ সমাবেশ’।এদিনের এই সমাবেশ কার্যত জনজোয়ারে পরিণত হয়েছিল। এত জনজোয়ারের মধ্যেও রাজ্য বিধানসভায় বামেদের কোনও বিধায়ক নেই। লোকসভাতেও বাংলা থেকে কোনও সাংসদ নেই।বারবার ‘শূন্য-শূন্য’ কটাক্ষ করা হয় বামেদের। বিরোধী দল তো বটেই, জনসাধারণের একাংশের মুখেও এই বুলি প্রায়ই শোনা যায়। বারবার প্রশ্ন ওঠে, বামেদের ভোট যায় কোথায়? রবিবার ব্রিগেডের মেগা সভায় সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।এদিন মীনাক্ষীর বক্তব্যের দিকে নজর ছিল সকলের।তিনি যুব সমাজকে কি বার্তা দেন সেই দিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল।যদিও এদিন মঞ্চে ওঠার পর থেকেই ঝাঁঝালো বক্তব্য রাখেন মীনাক্ষী। একটা সময়ে যিনি বাবার সঙ্গে ব্রিগেডে আসতেন আজ তিনিই ব্রিগেডের মূল বক্তা।ছোটবেলার কথা স্মরণ করে মীনাক্ষী বলেন, ‘অনেক ছোট থেকে ব্রিগেডে আসছি বাবার হাত ধরে। মঞ্চ তখন ওদিকে হতো, ওই কোনায় গিয়ে বসতাম। শিখেছিলাম, রাজনীতি করতে হলে পাশের জনের হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এটা শিখিনি যে রাজনীতি করতে হলে চোরের ঘরে জন্ম নিতে হবে, চুরি করতে হবে।’ তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘যে মাঠে বলেছিল খেলা হবে, তার দখল নিতে এসেছি।’ এরপরই মমতা-মোদীকে এক যোগে বিঁধতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা প্রত্যাশা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপিকে ভোট িদয়েছিলেন তাঁরা এখন হা-হুতাশ করছেন। যদি মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয় তাহলে লড়াইয়ের ময়দানে নামতেই হবে। বামপন্থাই একটি মাত্র শক্তি। যাঁরা ঘামের বিনিময়ে রোজগার করে তাঁদের হয়ে লড়াই করে। তাই বামপন্থার কোনও বিকল্প নেই।’এরপর মীনাক্ষী প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কারা বলে বামপন্থীরা শূন্য?’ মীনাক্ষীর কথায়, ‘কে বলছে বামপন্থীরা শূন্য? আরে ওদের তো শূন্যের শক্তি সম্পর্কে ধারণা নেই।বামেদের শূন্য বলা মূর্খামি। শূন্যরা যদি দখলদারির লড়াইয়ে নামে, তাহলে কী হবে, ওদের জানা নেই। আসলে ওরা বামপন্থীদের শক্তিকে ভয় পেয়েছে।’ মীনাক্ষীর আরও বক্তব্য, ‘আমরা সাংসদ, বিধায়ক হওয়ার জন্য লড়াই করি না। সিস্টেম বদলে দিতে চাই। টেস্ট ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত আমরা। তবে মাঝেমধ্যে টি-টোয়েন্টিও খেলতে হবে। আমরা তেমন খেলোয়াড়কেও ময়দানে নামাব। লড়াই ছাড়া বাঁচা যায় না। আপনাদের কাছে আবেদন, বাঁচতে চাইলে লড়াইয়ে শামিল হোন, ময়দানে আসুন। লড়াইটা নীতির, লড়াইটা আদর্শের।তাই ৫০ দিনের ‘ইনসাফ যাত্রা’র এখানেই শেষ নয়। লড়াই চলবে রুটি, রুজির জন্য। লড়াই করবেন মেহনতি মানুষ বঞ্চনার বিরুদ্ধে। লড়াই হবে গোটা সিস্টেম বদলে ফেলার জন্য।’ ব্রিগেড সমাবেশের একেবারে শেষে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বার্তা পাঠ করেছেন মিনাক্ষী।শনিবার পাম অ্যাভেনিউতে গিয়ে ওই বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। মিনাক্ষী বলেন, ‘কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আমাদের ডিওয়াইএফআই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সম্পাদক। তাঁর বাড়িতে আমরা শনিবার গিয়েছিলাম। লড়াইয়ের উষ্ণতা নিয়েই ফিরেছি। ওঁর বার্তা উনি ওঁর স্ত্রী এবং মেয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। এটাই আমাদের লড়াইয়ের ডাক। এটাই ডিওয়াইএফআইকে উজ্জীবিত করেছিল।’ তবে শুধু মীনাক্ষী নয়, বাম নেতা মহম্মদ সেলিমও এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন লড়াইয়ের ময়দানে লাল শক্তি আজও আগের মতোই ক্ষমতাবান।এখনও তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ভোট বাক্সে বামেদের ফলাফল নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। বলেন, ‘অনেকে বলবেন এত লোক হল ভোটটা কোথায়?’ এর উত্তর দিতে গিয়ে সেলিম ভোটের সময় হিংসার কথা তুলে ধরেছেন। বকলমে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যদি শান্তিপূর্ণ ভোট হয় তাহলে এখনও বামেরা নিজেদের আসন ধরে রাখতে সক্ষম।ব্রিগেডে দলের যুব সংগঠনের মঞ্চ থেকে দুর্নীতির ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। তিনি বলেন, মোদী-মমতার মতো স্বৈরাচারীরা ভুল স্বীকার না করলেও ভুল স্বীকার করতে বুক কাঁপে না বামপন্থীদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন শকুনির কাছে বাংলাকে বাজি রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নতুন যৌবনের দূতদের মাধ্যমে বাংলার ভূতকে তাড়ানোর ডাক দিয়েছেন মহঃ সেলিম। সেলিম বলেন, গুণ্ডাকে গুণ্ডা বলতে, সাম্প্রদায়িককে সাম্প্রদায়িক বলতে ভয় করে না বামপন্থীরা।হক চাইতে গেলে ধক লাগে যা ডিওয়াইএফআই দেখিয়েছে।সেলিম বলেন, রাজ্যের মানুষ চুরি ও মিথ্যাচার দেখে ক্ষুব্ধ। ৫৬ কিংবা ৩৫৬ নয়, বাংলাকে বাঁচাতে বাংলার মানুষই যথেষ্ট।এ রাজ্যে বুলডোজ়ারের রাজনীতি চলবে না। বাংলাকে অসম, মণিপুর হতে দেব না। উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না। বুলডোজ়ারের সামনে দাঁড়ায় বামপন্থী বৃন্দা কারাত। কোনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়াতে পারেন না।
দলের যুব সংগঠনের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে সেলিম বলেন, লড়াই জারি রেখো কমরেড। ইনসাফ যাত্রা ব্রিগেডে শেষ হয়ে যায়নি। এই লড়াই রাজ্যের কোণে কোণে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিওয়াইএফআই-এর প্রাক্তন সম্পাদক। যে ময়দান থেকে খেলা হবের ডাক দেওয়া হয়েছিল, সেই ময়দান থেকে তিনি লড়াই করার চ্যালেঞ্জ জানান।যদিও বামেদের এই বিগ্রেডকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল ও বিজেপি।বামেদের ব্রিগেড প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘ডিওয়াইএফআইয়ের ব্রিগেড সমাবেশের নামে কিছু লোক ব্রিগেড যাবেন। কিন্তু সিপিএমকে ভোট দেবেন না। ব্রিগেড নতুন নয়। ২১ সালেও ব্রিগেড করেছে। তারপর শূন্য পেয়েছে। ব্রিগেডে লোক আসছে দেখিয়েও সিট তো সেই গিয়ে শূন্য। বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে সিপিএম।’ কুণালের আরও সংযোজন, ‘যাঁরা আজ লালঝান্ডা নিয়ে হাঁটবেন, চক্ষুলজ্জায় বলতে পারবেন না, তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষ, যাঁদের বাড়িতে কন্যাশ্রী, সবুজসাথী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। তাঁরা ভোট দেবেন তৃণমূলকে। আর বাকি যারা অন্ধ তৃণমূল বিরোধী তাঁদের ভোট যাবে বিজেপিতে ।’ কুণালের চ্যালেঞ্জ,’সিপিএমের ক্ষমতা থাকলে ৪২টা আসনে একা লড়ুক, জামানত জব্দ হবে, শূন্য পাবে। তাহলে ব্রিগেডের ভ্যালু কী আছে, ব্রিগেডের ভ্যালু নেই।’ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও কার্যত একই সুরে বাম ব্রিগেডকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বিধানসভার আগেও ব্রিগেড করেছিলেন বামপন্থীরা। ভরিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু একটা আসনেও জিততে পারেনি। ব্রিগেড করা আসলে বামপন্থীদের একটা ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে করে। যতদিন পার্টি আছে এটা চেষ্টা করবেন তাঁরা।’

Most Popular

error: Content is protected !!