Friday, March 1, 2024
Homeজেলালাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও...

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা:
সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের পরিষেবার জন্য নানা ধরণের ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন তথা
গঙ্গাসাগর মেলা কমিটি। কিন্তু একটা বিষয় নিয়ে সেইভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে দেখা যাচ্ছে না। বলা যায়, প্রতিবছর
কার্যত এটাই উপেক্ষিত থেকে যায়।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

তা হল, লাখ লাখ টাকা খরচ করে তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য চারপাশ ঢাকা বড় বড় হ্যাঙার শেড করা হয়। যাতে ভিন রাজ্য থেকে মেলায় আগত পুণার্থীদের খোলা আকাশের তলায় ঠাণ্ডার ভিতর থাকতে না হয়। কোনও ভাবে কষ্ট না হয়। সরকারের এই উদ্যোগ নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। কিন্তু সেইসব বড় বড় হ্যাঙারের ভিতর কি সত্যিই বাইরে থেকে তীর্থযাত্রীরা এসে শেষ পর্যন্ত থাকার জায়গা পাচ্ছেন? এই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজা উচিত প্রশাসনের।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

যাচাই করা দরকার। বিগত কয়েকবছর ধরে মেলার সময় বড় আকারে একাধিক
হ্যাঙার শেড করা হচ্ছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা হল, সাগরমেলার স্নানের দু’ দিন আগে থেকে বাইরের পূণার্থীদের ভিড়
বাড়তে থাকে, সেই সময় হ্যাঙার শেড এ কোনও ঠাঁই নাই অবস্থা হয়। স্নানের আগের দিন এই ভিড় আরও বাড়ে। তখন
তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য কোথাও জায়গা পান না।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

স্বাভাবিকভাবে তাঁদের বাইরে খোলা আকাশের তলায় বালির উপর
খুব কষ্ট করে প্লাস্টিক পেতে শুতে হয়। গায়ের উপর প্লাস্টিক ঢেকে রাখতে হয় সারারাত। এমনটা হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু এই চিত্র প্রতিবছর মেলার সময় হচ্ছে। এবারও সেই পরিস্থিতি পালটানোর কোনও আশা নেই। কারণ,
সাগরমেলা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন হলেও এই বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

কেউ এ ব্যাপারে আলোপাত
করেনি। প্রতিবেদকের দীর্ঘ বছর ধরে মেলার সময় সাগরে খবর করার জন্য থাকার সুবাদে তীর্থযাত্রীদের এই
দুরবস্থার ছবিটা দেখতে হয়। কিন্তু এই ছবিটার বদল হতে পারে। প্রশাসন এ নিয়ে একটু অন্যভাবে চিন্তা-ভাবনা
করলে বাইরে থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের হ্যাঙার শেডের ভিতর থাকার জায়গা নিশ্চিত করে দিতে পারে।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

তার আগে এর
উপর লাগাতার নজরদারি করা প্রয়োজন। তা হল, ওই সব যাত্রী শেডে কবে থেকে কোথাকার লোক এসে দখল করে
রাখছে। মেলায় বেশ কয়েক প্রকার লোক এই জায়গা দখল করে রাখে। এর ভিতর হল, এখানে যারা হকারি করতে আসে।
লাগোয়া জেলা থেকে লোকজন এসে জায়গা দখল করে রাখে। পরে পয়সার বিনিময়ে তা বিক্রি করে দেয়। বিশেষ করে
মেলায় যারা কেনা-বেচার জন্য আসেন, কিন্তু তাঁদের থাকার জায়গা নেই।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

তাঁদের অধিকাংশ তীর্থযাত্রী সেজে সেখানে
ঠেক গাড়ে। প্রশাসনের উচিত হল, হ্যাঙার শেডগুলি দেখার জন্য আলাদা করে স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করা। সঙ্গে
নিরাপত্তাকর্মী রাখা। স্বেচ্ছাসেবকরা একটি খাতায় হ্যাঙার শেডে কারা আসছেন, কোথা থেকে আসছেন, কতদিন
সেখানে থাকবেন তা লিপিবদ্ধ করে রাখে। তা থেকে বোঝা যাবে এরা কারা।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরমেলায় তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হ্যাঙার শেড করলেও সেখানে থাকার জায়গা কি পায়?

শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের জন্য হ্যাঙার
শেডে সুযোগ না দিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি এটাও প্রয়োজন যে, একটি টিম তৈরি করা যাঁদের কাজ হবে,
বাইরের তীর্থযাত্রীদের মেলার ঢোকার আগে এ ব্যাপারে তাঁদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা । যাতে তাঁরা সহজে থাকার
জায়গাতে পৌঁছতে পারে। এজন্য তাঁদের অহেতুক ঘুরতে না হয়। সাগরমেলা কমিটি এবার এ নিয়ে ভাবুন।

Most Popular

error: Content is protected !!