Wednesday, February 28, 2024
Homeরাজ্যকেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

স্টাফ রিপোর্টার: “কেন্দ্রীয় সরকার বা কোনও তদন্তকারী সংস্থার উপরে নির্ভর করে নির্বাচনে লড়ার কথা ভাবলে চলবে না। রাজ্য নেতৃত্বকে নিজেদের জোরেই ভোট লড়তে হবে!” লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।সোমবার মধ্যরাতে কলকাতায় এসেছেন শাহ।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

তাঁর সঙ্গেই এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা।মঙ্গলবার সকালে বড়বাজারের গুরুদ্বার এবং কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান দু’জনে। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজ এবং বৈঠক চলে নিউ টাউনের হোটেলে।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত সকলেরই মতামত শুনেছেন শাহ ও নড্ডা। লোকসভা নির্বাচনে কী কী করা দরকার, তা নিয়ে সকলের পরামর্শও শুনতে চান তাঁরা। তবে এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, শুধু পরামর্শ দিলেই হবে না। কাজ করে দেখাতে হবে সবাইকে। নেতারা কাজ না করলে কর্মীরা পথে নামবেন না বলেও বুঝিয়ে দেন শাহ। একই সুর ছিল নড্ডারও।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

অতীতে শাহ রাজ্য এসে বার বার বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ‘নির্ভরতা’ কমিয়ে বুথে বুথে সংগঠন মজবুত করতে বলেছিলেন শাহ। দিল্লির নির্দেশে রাজ্যে ‘মেরা বুথ, সব সে মজবুত’ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল। এ বারেও ‘বুথ সশক্তিকরণ’ কর্মসূচি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

সে ‘কাজ’ কতটা হয়েছে, তার হিসাবও শাহ-নড্ডা মঙ্গলবারের বৈঠকে চেয়েছেন বলে খবর। রাজ্য নেতারা সে হিসাব দিয়েছেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার মতে, তাতে দুই শীর্ষনেতা খুব খুশি হননি। পরে দিল্লিতে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব তড়িঘড়ি বুধবারেই নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

তবে বিধানসভা নির্বাচনের মতো কেন্দ্রীয় নেতারা লোকসভা ভোটেও বাংলায় বেশি করে সময় দেবেন বলে রাজ্য নেতাদের নিশ্চিন্ত করেছেন শাহ। বৈঠকে রাজ্য নেতারা জানুয়ারি থেকেই বাংলায় বড় বড় সমাবেশ করার আর্জি জানান। ওই সব সমাবেশে শাহ-নড্ডার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এলে বাংলায় কর্মীদের মনোবল বাড়বে বলে দাবি করেন তাঁরা।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

এ ব্যাপারে কোনও দিনক্ষণ না জানালেও নড্ডা বুঝিয়ে দেন, এমন পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও। আর শাহ বুঝিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা অবশ্যই আসবেন। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে আসল লড়াইটা করতে হবে রাজ্য নেতাদেরই। তাঁদেরই উদ্যোগী হতে হবে, যাতে সংগঠন মজবুত হয়, বসে যাওয়া এবং বিক্ষুব্ধ কর্মীরা মাঠে নামেন।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

যে সব নেতা-কর্মীরা দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন, তাঁদের কী ভাবে কাজে ফেরানো যায়, তা দেখার জন্যও রাজ্য নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন নড্ডা।বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার কথা অনুযায়ী শাহ এমনও বলেছেন, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে রাজনৈতিক ভাবেই।

কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়ায় লড়তে হবে দলকেই, বার্তা শাহের

সেই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। রাতারাতি কোনও বদল সম্ভব নয়। এমনটা আশা করাও ঠিক নয়! পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Most Popular

error: Content is protected !!