Friday, March 1, 2024
Homeরাজ্যজট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার : সোমবার বিকাশ ভবনে আন্দোলনরত ২০১৬ সালের এসএলএসটি চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। যোগ্যতা সত্ত্বেও মেলেনি প্রাপ্য চাকরি। প্রতিবাদে এক হাজার দিনেরও বেশি রাস্তায় কেটেছে। নিয়োগের দাবিতে পথে বসেই নিজের মাথার চুল বিসর্জন দিয়েছেন আন্দোলনকারী রাসমনি পাত্র।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

এর পরই প্রতিবাদীদের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বৈঠকের ডাক দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।সোমবার প্রায় দু ঘণ্টা ধরে সেই বৈঠক হয়।বৈঠকে ছিলেন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন, শিক্ষা দপ্তরের ল অফিসার, স্বাক্ষরতা মিশনের শুভ্র চক্রবর্তী, এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

সোমবার ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠকের পরে চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, সোমবারের বৈঠক সদর্থক হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের যাতে বেশিদিন আর রাস্তায় বসে থাকতে না হয়, সেই আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ২২ ডিসেম্বর একদফায় ফের বৈঠক হবে। সেখানেই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, “জানতে চাইলাম আমাদের নিয়োগ দেওয়ার বাধাটা কোথায়?

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

আজ আলোচনায় দেখলাম বিভিন্ন দফতরের মধ্যে একটা মিসকমিউনিকেশন ছিল। ঠিকভাবে আইনি জটিলতা কাটানোর চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ দিতে হবে।” চাকরিপ্রার্থীরা জানান, “নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের ৫ হাজার ৫৭৮ জনকেই নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তাঁরা।”

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

তাঁরা বলেন, “এই প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে চালানোর সদিচ্ছা আমরা দেখেছি। আমরা জানতে চেয়েছিলাম কতদিনের মধ্যে আমরা নিয়োগ পাব? আগামী ১০ দিনের মধ্যেই কী হল তা জানানো হবে।”তাঁরা বলছেন, এই জটিলতা কাটলে ভাল কিছুই অপেক্ষা করছে। যাঁরা যোগ্য, চাকরি তাঁরা পাবেই, সেই আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানালেন এদিনের বৈঠক শেষে।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

আরও একটি বিষয়ের কথা শোনা যাচ্ছিল কয়েকদিন ধরে। নিয়োগের প্যানেলের মেয়াদ ১ বছর থাকে বলে জানিয়েছিলেন হাইকোর্টের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এ প্রসঙ্গ উঠতেই চাকরিপ্রার্থীরা মেনে নেন যে কোনও স্বচ্ছ প্যানেলের মেয়াদ ১ বছরই থাকে। তবে একইসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, যে প্যানেল বিচারাধীন, তা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় না।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

সে কারণে চলতি মাসেও এই প্যানেল থেকেই চাকরি হয়েছে। তাই এ নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন। তবে ১ হাজার দিন পার করে যে আন্দোলন, তা চলবেই, জানিয়ে দিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। কথা হয়েছে আইনি জটিলতা কাটানো নিয়ে। বৈঠকে খুশি জানালেন চাকরিপ্রার্থীরাও।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

অন্যদিকে, এই বৈঠকের পরই বিকাশ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, “আশার আলো ছিলই। তবে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আইনি জটিলতা দূর করার জন্য আমাদের দিক থেকে সদর্থক উদ্যোগও ছিল। যেহেতু হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ, ডিভিশন বেঞ্চের পর সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছে। আমরা বারবারই বলেছি, আদালত যেভাবে চাইবে আমরা নিয়োগ দেব।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

আশা করছি যে আইনি জটিলতা আছে, তা কেটে যাবে।”আগামী ২২ তারিখ আবারও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ব্রাত্য বসু। তার আগে ১৪ তারিখ সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি আছে। ব্রাত্য বলেন, “আমাদের দিক থেকে যা যা করণীয় তা আমরা করব। তবে আদালতের রায় তো আমাদের উপর নির্ভর করে না। মহামান্য আদালত যেভাবে চাইবে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা অনুসারে আমরাও নিয়োগ দিতে শুরু করব।”

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

পাশাপাশি কুণাল ঘোষ বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী চান, অভিষেক চান জটিলতা কাটুক। কিছু জটিল জায়গা রয়েছে। আইনের মাধ্যমে কাটাতে হবে। ওঁরা দাবি রাখছিলেন, সরকারের কিছু বাধ্যবাধকতা ছিল। আজকের বৈঠক ইতিবাচক, ফলপ্রসূ। আইনি জট কাটাতে সরকারের তরফে, এসএসসির তরফে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আশা করা যায় জটিলতা কাটবে।

জট কেটে দ্রুত নিয়োগ হবে, আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা, ২২শে ফের বৈঠক

কোথাও না কোথাও ভুল হয়েছিল। তার জন্য জটিলতা। অনেক ছেলেমেয়েকে ভুগতে হয়েছে। সমস্ত দিক সামলে সমাধানের পথ বার করা হচ্ছে।” এনিয়ে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ”অনেকেই চায়, ধরনা মঞ্চ থাকুক। জট পাকানোর জন্য কিছু শকুনি বসে থাকে। আমরা চাইছি চাকরি হোক। সকলে চাকরি পাক।”

Most Popular

error: Content is protected !!