Tuesday, February 27, 2024
Homeরাজ্যআমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও...

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

স্টাফ রিপোর্টার : টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এদিকে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার খবর পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। পাশে দাঁড়ালেন মহুয়া মৈত্রের।কার্শিয়াং থেকে তিনি বলেন, ”মহুয়া প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হল। তাঁকে তো কোনও সুযোগই দেওয়া হল না আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

ওকে ভোটে হারাতে না পেরে এই কাণ্ড করল বিজেপি। ওরা রাজনৈতিকভাবে লড়তে পারে না। আজ যা ঘটল সংসদে, তা কালো দিন।” মমতা বলেন, ‘‘মহুয়ার বিষয়ে আমাদের ‘ইন্ডিয়া’র শরিকেরা আরও খানিকটা সময় চেয়েছিলেন। ৪৯৫ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট, সেটা পড়তে সময় লাগবে না? দু’ঘণ্টার মধ্যে আলোচনা শুরু করা হল।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

আধ ঘণ্টায় ৪৯৫ পাতার আলোচনা হয়েও গেল! কী করে হল আমি বুঝলাম না। মহুয়ার সাংসদ পদও খারিজ করে দেওয়া হল। আমি স্তম্ভিত।’’ পাশাপাশি, দল মহুয়ার পাশে আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘দল মহুয়ার পাশে আছে। ছিল। এই ঘটনা থেকে বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি আরও এক বার প্রমাণিত। মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু বলার সুযোগই দেওয়া হল না। আমি এর তীব্র বিরোধিতা করছি।’’

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

মমতা বলেন, ‘‘আমরা চেয়েছিলাম সুবিচার হোক। বিচার করলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তুমি সিবিআইও করবে আবার সদস্যপদ খারিজও করবে। দু’ তিন মাস পরে নির্বাচন। বড়জোড় আর একটা অধিবেশনে যেতে পারত। সেই সুযোগটাও তোমরা দিলে না। এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয় বিজেপি কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক দল।’’

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘আজ তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, কাল না-ও থাকতে পারে। আমাদেরও দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আমরাও যা খুশি করতে পারি। আমরা যে কাউকে বিধানসভা থেকে বহিষ্কার করতে পারি। কিন্তু সেটা কি ঠিক? এই ঘটনায় আমি বলতে পারি, মহুয়া পরিস্থিতির শিকার। আমি এই সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা করছি।ইন্ডিয়া জোট ও দল লড়বে।’’ পাশাপাশি মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী লেন, ‘‌প্রত্যেকেই রাইট টু ডিফেন্স করার অধিকার রয়েছে। মহুয়ার সম্পর্কে যিনি বলেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না। মহুয়া মৈত্র যে ক্রস চেক করবেন, সেই সুযোগই দেওয়া হয়নি। তদন্তই হয়নি। আদানির বিরুদ্ধেও তদন্ত হল না। আর মহুয়ার বিরুদ্ধে চটজলদি একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তাঁর পদ খারিজ করে দেওয়া হল।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

মহুয়া সম্পর্কে তৃণমূলের নেতারা বলেছিলেন, এটা ওঁর ব্যক্তিগত লড়াই, লড়ে নিতে পারবেন। তৃণমূলের দ্বিচারিতা ধরা পড়ল। মহুয়া মৈত্রকে সমবেদনা কুড়ানোর সুযোগ করে দিলেন।’‌ এদিন আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় অধীররঞ্জন চৌধুরীকে। অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘বেলা ১২টায় রিপোর্ট সাংসদদের হাতে এসেছে। তারপর ২টোর সময় আলোচনা শুরু হয়। এখানে ১২টার সময় বেরিয়ে রিপোর্ট ডাউনলোড করতে আরও সময় লেগেছে।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

৪৯৫ পাতার রিপোর্ট। এত অল্প সময়ের মধ্যে কী করে কারও পক্ষে এত বড় রিপোর্ট পড়া সম্ভব? এই রিপোর্টে কোনও ভুল আছে কি না, তা কী করে বোঝা সম্ভব? এটা কোনও ছোট বিষয় নয়। এই সিদ্ধান্ত নতুন সংসদ ভবনে নজির হয়ে থাকবে। রিপোর্ট ভাল করে পড়ে দেখার জন্য অন্তত তিনদিন সময় দেওয়া হোক। এই বিষয়ে যথাযথ আলোচনা হওয়া দরকার।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁকে তো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এখানে মহুয়া মৈত্রকে অন্তত বলতে দিন। তথ্য প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌ যদিও বিজেপির বক্তব্য, কে বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সুযোগ পেলেও তখন কিছু বলেননি। ওয়াক আউট করে গিয়েছিলেন।’’ বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘লোকসভায় আমরা ১৪০ কোটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

দেশের সুরক্ষার বিষয়ে কোনও দল আলাদা করে গুরুত্ব পায় না। বিজেপি হোক, তৃণমূল হোক বা কংগ্রেস হোক, দেশের সুরক্ষার বিষয়ে কেউ বেইমানি করলে তাঁর শাস্তি হবেই।’’ ভিডিয়ো পোস্ট করে মহুয়াকে আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, নস্বরতার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখুন, পরমাত্মাকে উদ্দেশ করে কোনও অপবাদ দেবেন না।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

তাঁর মহিমাকে খাটো করার ক্ষমতা আপনার নেই। বরং তাঁর প্রকোপে আপনি মুখে যেতে পারেন। বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘মহুয়াকে বহিষ্কার অনৈতিক হয়ে থাকলে দেশের সমস্ত সাংসদের বাড়ির দরজায় রেট চার্ট টাঙিয়ে দেওয়া উচিত। সুকান্ত মজুমদারকে দিয়ে প্রশ্ন করাতে হলে প্রশ্নপ্রতি ১০ হাজার। সৌগত রায় যেহেতু অনেক দিনের সংসদ তাই তাঁর ১৫ হাজার।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

মহুয়া মৈত্র যখন দেশে ছিলেন তখন তাঁর আইডি দিয়ে বিদেশ থেকে লগ ইন হয়েছে। উনি নিজে স্বীকার করেছেন যে উপহারের বিনিময়ে প্রশ্ন করেছেন। ওনাকে সহবৎ সমিতির সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে উনি নিজের সমর্থনে বক্তব্য রেখেছেন। তার পর ওনাকে প্রশ্ন করা হলে উনি পালিয়ে গিয়েছেন।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

এখন উনি দাবি করছেন সংসদে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। লোকসভা চলে রুল বুক অনুসারে। মহুয়া মৈত্রের ইচ্ছায় লোকসভা চলে না। লোকসভার রুল বুকে এরকম কোনও অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।’ তিনি বলেন, ‘এর আগে যখন ১০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছিল তার মধ্যে ৬ জন বিজেপি সাংসদ ছিলেন। তাদেরও বলতে দেওয়া হয়নি।

আমাদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছা করলে বহিষ্কার করতে পারি, মহুয়ার পাশে মমতা, আরও শাস্তি চায় বিজেপি

তখন কংগ্রেসের সরকার ছিল। বিরোধী দলনেতা ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানী। তিনি বলেছিলেন’ আমরা কোনও ভাবেই এই দুর্নীতিকে সমর্থন করি না। তখন লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় সেজন্য আদবাণীজিকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।’

Most Popular

error: Content is protected !!