Tuesday, February 27, 2024
Homeদেশবকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, ‘আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম’, পাল্টা সাধ্বী

স্টাফ রিপোর্টার : কেন্দ্রের কাছে বাংলার বকেয়া প্রাপ্তির দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরেই সরব রাজ্য সরকার।আর সেই বকেয়া ইস্যুতে মঙ্গলবার তীব্র বাদানুবাদ হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। এদিন লোকসভায় কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা মেটানোর দাবি করেন সুদীপ।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

তৃণমূল সাংসদ বলেছেন, যে গ্রামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, আবাস যোজনার মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা গত দুই বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছে কেন্দ্র। যার ফলে রাজ্যের বকেয়া অর্থের পরিমাণ এখন প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। যে গ্রামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেখানে টাকা দেওয়া বন্ধ করা যেতে পারে।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

তা বলে পুরো রাজ্যকে কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে।তৃণমূল সাংসদের আরও অভিযোগ, রাজ্যের বকেয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে বৈঠক করার জন্য মাসখানেক আগে কৃষি ভবনে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ ও রাজ্যের মন্ত্রীরা। তাদের চা খাইয়ে দু’ঘণ্টা বসিয়ে রেখে, পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

এরপর দিল্লি পুলিশকে দিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।সুদীপের অভিযোগে পাল্টা সাধ্বী নিরঞ্জন বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তাঁর উপরে মিথ্যে অভিযোগ চাপাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে আমি আড়াই ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করেছিলাম।আমাকে বলা হয়েছিল, তৃণমূলের ৫ জন প্রতিনিধি দেখা করবেন।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

আমি রাজি ছিলাম। তারপর আমাকে বলা হল, ১০ জন প্রতিনিধি দেখা করবেন। তাতেও আমি রাজি হয়ে যাই। আমি আড়াই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছিলাম।তারপর আমাকে বলা হল, সব সাংসদ দেখা করবেন। তাতেও রাজি হলাম। আসলে তৃণমূল কংগ্রেস চাইছিল না মিটিং হোক।’ জ্যোতির কটাক্ষ, তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ দেখে। জনতার স্বার্থ নয়।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

এরপরেই মহুয়া মৈত্রকে নিশানা করে সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি বলেন, ‘মহুয়া মৈত্র আমায় পাপী বলেছিলেন। আমি বলতে চাই, আমি একজন সন্ত। এর পরিনাম ভুগতে হল মহুয়াকে।’ পাশাপাশি এদিন ভুয়ো জব কার্ডধারীর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)।জাল জব কার্ড কোন রাজ্যে কত? এই প্রশ্নই করেছিলেন দেব।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

মঙ্গলবার উত্তরে সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি জানিয়েছেন, শেষ দুই আর্থিক বর্ষে মোট ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ৪০১টি জাল জব কার্ড বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তর প্রদেশ, যেখানে ভুয়ো জব কার্ডের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার। মধ্যপ্রদেশে সেই সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৮ হাজার। ওড়িশায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৫০, বিহারে ১ লক্ষ ৭ হাজার ২৬৫, ঝাড়খণ্ডে ৯৪,২০১,

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

রাজস্থানে ৬০,৪২৮, অসমে ১১ হাজার ১৪৪, ছত্তীসগঢ়ে ২১ হাজার ও পশ্চিমবঙ্গে ৫ হাজার ৬৫১টি ভুয়ো জব কার্ডের সন্ধান মিলেছে।কেন্দ্রের দাবি, ভুয়ো জব কার্ডধারীর সংখ্যা বাংলায় অনেক।তৃণমূলের দাবি, এই রাজ্যে ভুয়ো কার্ডের সংখ্যা মাত্র ৫ হাজার। তাই কেন্দ্রীয় সরকার যা বলছে, তা আদতে কুৎসা।

বকেয়া নিয়ে সংসদে সরব সুদীপ, 'আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম', পাল্টা সাধ্বী

কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবে রাজ্যকে বঞ্চনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বাংলায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হয়েছে, আর ভুয়ো জব কার্ড সবথেকে বেশি পাওয়া গিয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে।”

Most Popular

error: Content is protected !!