Tuesday, May 28, 2024
spot_img
spot_img
Homeরাজ্যএকদফাতেই ৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট

একদফাতেই ৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট

স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চায়েত ভোটের তারিখ নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা চলছিল রাজ্যে। সেই জল্পনার অবসান। অবশেষে ঘোষণা হল পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন।আগামী ৮ জুলাই পঞ্চায়েত ভোট হবে রাজ্যে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ সাংবাদিক বৈঠক করে দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন।এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘‘দার্জিলিং এবং কালিম্পঙে দ্বিস্তর এবং বাকি রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৮ জুলাই, শনিবার।এক দফাতেই সম্পন্ন হবে পঞ্চায়েত ভোট। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালেও একদিনে হয়েছিল পঞ্চায়েত ভোট। এবছরও সেই সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা হতে পারে ১১ জুলাই।মনোনয়ন জমা শুরু আজ থেকেই।১৫ জুন মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ তারিখ স্ক্রুটিনির শেষ দিন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য ২০ জুন পর্যন্ত সময় পাবেন পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থীরা।বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হয়ে গিয়েছে। ফলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৮ পর্যন্ত মিটিং মিছিল করা যাবে না।শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করানোর প্রস্তুতি নিয়ে তবেই এই ঘোষণা বলে জানিয়েছেন রাজীব সিনহা।২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে লাগামছাড়া হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন জমা দিলেও তা প্রত্যাহার করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেইসঙ্গে রক্ত বয়েছিল নির্বাচনের সময়। রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।সেই পরিস্থিতিতে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করার দাবি তুলে আসছেন বিরোধী নেতারা। যদিও আপাতত সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। রাজীব দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারবেন না। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজ্য পুলিশের উপরে আস্থা রাখা উচিত।’রাজ্যের নয়া নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, এবার অনলাইনে মনোনয়ন জমা নেওয়ার বিষয়ে আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে সেই বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি থাকবে, সেটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনও তো সব বুথে সিসিটিভি রাখে না।যদিও মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, এই সময়সীমার মধ্যেই পড়ছে শনিবার ও রবিবার। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ওই দিনগুলিতে কোনও কাজ হবে না বলেই দাবি তাঁদের। সে ক্ষেত্রে মাত্র ৫ দিন কেন ধার্য করা হল? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টুইট করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত মালব্য। অন্যদিকে, ভোটের দিন ঘোষণার আগে সর্বদলীয় বৈঠক কেন হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, একটিও সর্বদল বৈঠক না ডেকে, কোনও আলোচনা না করেই একতরফা ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়েছে।যদিও কমিশনের দাবি, সর্বদলীয় বৈঠক করে ভোটের দিন ঘোষণার নিয়ম নেই। যখন প্রয়োজন হবে বৈঠক হবে।মোট ২২টি জেলায় ৩৩১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৯৪। মোট পঞ্চায়েত আসন ৬৩ হাজার ২৮৩টি। আগামী ৮ জুলাই, শনিবার এই ৬৩ হাজার ২৮৩টি আসনে একদফাতেই ভোট গ্রহণ করা হবে।এদিকে ৮ জুলাই মানে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ। বাংলায় বর্ষা আসে জুন মাসের মাঝামাঝি। সে ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ভোট হবে ভরা বর্ষাতেই।তবে বর্ষায় ভোট হওয়ায় গ্রামে ভোট দিতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।এদিকে রাজ্য পুলিশকে দিয়ে ভোট করার ব্যাপারে প্রশ্ন শুরু করে দিয়েছে বিরোধীরা।রাজ্য পুলিশের উপর যে ভরসা করা যাবে না, সেই বিষয়টি প্রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর কটাক্ষ, ‘রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা করা যাবে না, কারণ রাজ্য পুলিশ তৃণমূল সরকারের দালালি করবে’।কার্যত একসুর রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কটাক্ষ, ‘৩ হাজার পুলিশ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই কাগজের ব্যালটবাক্স রক্ষা করতে পারছে না, আর তারা এত বড় নির্বাচন একদফায় করে দেবে? নির্লজ্জতা, দখলদারির একটা সীমা থাকে।’ এই পুলিশকে দিয়ে কোনও নির্বাচন সম্ভব নয়। তাঁর আক্রমণ, ‘মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য এই নির্বাচন করে নেওয়া হয়েছে।’ তাঁরও মত, এই পুলিশ দিয়ে যখন সম্ভব নয়, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে।যদিও বিরোধীদের পাল্টা দিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বিরোধীদের কারও কারও কথা শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনী যেন অধিকার। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন কমিশন করে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয়। কিন্তু পুরভোট ও পঞ্চায়েত ভোট রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশ দিয়ে হয়।কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটের পরেও বিধানসভায় শূন্য পেয়েছিলেন তাঁরা। সিপিএম-এর সঙ্গে জোট করে শূন্য পেয়েছিলেন।’তৃণমূল মুখপাত্রের প্রশ্ন, ‘কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে না? এটা কি মামাবাড়ির আবদার নাকি?’ বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে কুণালের ব্যাখ্যা, যাদের সংগঠন দুর্বল ও মানুষের উপর আস্থা নেই, তারাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি তুলছেন। কুণাল আরও বলেন, ‘২০২১ সালে আট দফায় নির্বাচন হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়েছিল। ইচ্ছামতো অফিসার বদলি করা হয়েছিল। তারপরও হেরেছিল।’

Most Popular

error: Content is protected !!