Sunday, May 19, 2024
spot_img
Homeকলকাতাএই গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং কি সিইএসসি-র গঙ্গাপ্রাপ্তির লক্ষণ, প্রশ্ন শহরবাসীর

এই গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং কি সিইএসসি-র গঙ্গাপ্রাপ্তির লক্ষণ, প্রশ্ন শহরবাসীর

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফের কলকাতা জুড়ে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন তিক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা তিলোত্তামা শহরের মানুষের ছিল না। বরং এই শহরের মানুষ অহঙ্কার করে বলতেন সিইএসি এলাকায় থাকি। লোডশেডিং কাকে বলে জানিনা। এটা গ্রামীণ এলাকাতে যেখানে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানি এর দায়িত্বে, সেখানে এই যন্ত্রণা নিত্যসঙ্গী। সামান্য ঝড় কিংবা পাতা নড়লে বিদ্যুতের গঙ্গা প্রাপ্তি ঘটে। এটাও ঠিক কলকাতাতে সিএসসি বিদ্যুতের চড়া দাম আদায় করে। কারণ তাদের পরিষেবা এক নম্বর।  ফলে মানুষ এ নিয়ে সেভাবে কোনও সময় প্রতিবাদের রাস্তায় যায় না। তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা বেহাল বলেই রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির দাম ও অনেক কম। তবে এই সময় গরমে মানুষ যখন নাজেহাল ও তিতিবিরক্ত তখন দেখা যাচ্ছে কলকাতা শহর জুড়ে বিভিন্ন এলাকাতে লোডশেডিং করা হচ্ছে। দিনের বেলায় এটা বেশি হচ্ছে। রাতে কখনও কখনও হচ্ছে। অদ্ভুত হল এটাকে কখনও লোডশেডিং বলা হচ্ছে না। কৌশলে সিইএসসি হোয়াটস আপে একটা মেসেজ দিচ্ছে। আপনার এলাকায় মেরামতের জন্য কিছু সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে। এজন্য আমরা দুঃখিত। ব্যস এইটুকু বলে দায় সারছে। কিন্তু এই শহরের মানুষ গড়ে প্রতি মাসে হাজারের উপর বিল পেমেন্ট করে। অনেকের আড়াই থেকে তিন হাজার বিল হয়। কারণ শহরের প্রতিটি ঘরে ইন্ডাকসন, ফ্রিজ, এসি, কাপড় কাঁচার মেশিন থেকে আরও একাধিক বিদ্যুতের সরঞ্জাম ব্যবহার হয়। তাহলে এত টাকার বিল দিয়ে কেন এই লোডশেডিং এর যন্ত্রণা ভুগতে হবে? এই প্রশ্ন শহরের মানুষের। এই প্রতিবদনের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের একজনের অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হল। তিনি বর্তমান পত্রিকার প্রাক্তন চিফ রিপোর্টার। শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং  বুদ্ধিমান ও। মেপে শব্দ খরচ করেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মতো একজন সাংবাদিক এর যন্ত্রণা নিশ্চয়ই অহেতুক নয়। তিনি হলেন নিমাই দে। কি বলছেন তিনি তা শোনা যাক।একটা সময় বুক বাজিয়ে বলতাম, আমরা সিইএসসি এলাকায় থাকি। বিশেষত, এসইবি-র (রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ) সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যেত, বিলিং নিয়ে যতই অভিযোগ থাক, পরিষেবার দিক থেকে সিইএসসি যথেষ্ট ভালো।কিন্তু এবারের গরম হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে, সিইএসসি নামটাই শুধু আছে। পরিযেবার গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটেছে। এতো শোচনীয় পরিস্থিতি আগে দেখিনি।আমি থাকি বাগুইআটির দক্ষিণপাড়া এলাকায়। গত প্রায় দুমাস ধরে এখানে ভোল্টেজ যে হারে আপ-ডাউন হচ্ছে, বলার নয়। এখন রাত সাড়ে ১১ টা বাজে। ঘন ঘন ভোল্টেজ এত নেমে যাচ্ছে যে টিউব লাইট প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এসি দফায় দফায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।সবাই যেমন কমপ্লেন করে, করেছিলাম। কেউ ফিরে তাকায়নি। খুঁজে গ্রিভান্স সেলের এক কর্তার মেল আইডি পেলাম। দুঃখ-যন্ত্রণার কথা তাঁকে জানালাম। পরেরদিন তাঁর ফোন। বুঝলাম, ভোল্টেজ ডাউন হতে পারে, মনুষ্যত্ব আপই আছে। সব শুনলেন তিনি। আমাদের এলাকাটি নাকি শ্যামবাজার জোনে পড়ে। সেখানকার অফিসারকে তিনি আমার বেদনার ইতিবৃত্ত ফরওয়ার্ড করে দিলেন। আর হ্যাঁ, বললেন, এটা আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সত্যিই গুরুত্ব পেলাম। শ্যামবাজারের সেই গ্রিভান্স অফিসার মেলেই জানতে চাইলেন আমার কাস্টমার আইডি। দিলাম। ব্যস, ওখানেই শেষ। আর কেউ কোনওদিন যোগাযোগই করেননি। সমস্যা যা ছিল, তা তো আছেই। মনে হচ্ছে আরও বেড়ে গেছে। এই তো আজই ৩০ মিনিটে অন্তত ১০-১২ বার এসি বন্ধ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, এর থেকে লোডশেডিং বোধহয় ভালো।এতো ভোল্টেজ আপ-ডাউন হলে ফ্রিজ, ওয়াটার পিউরিফায়ার, এসি, টিভি এসব দামী জিনিসের কী হবে? নষ্ট হয়ে যাবে না তো? আর যদি নষ্ট হয়, তার দায় কার? এমন হাজারো উদ্বেগ, আশঙ্কা মাথায় ঘুরপাক খায়। কিন্ত সমাধান কে করবে? উত্তরই বা কে দেবে?গরম অস্বাভাবিক, একথা ঠিক। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লোডশেডিং করাতে হয়। এটাই জেনে এসেছি। কিন্তু এ তো অদ্ভুৎ পরিস্থিতি। লোডশেডিং তো নয়। আবার কারেন্ট থেকেও যন্ত্রণার একশেষ।বুঝতে পারছি না, সমস্যাটা কি আমাদের এলাকার? যদি তা না হয়, তাহলে কি সবাই এটাকেই ভবিতব্য বলে ধরে নিয়েছে?ফেসবুক বন্ধুদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমরা কি এতটাই অসহায় হয়ে পড়েছি??সিইএসসির কি দায়িত্ব নয়, প্রকৃত পরিস্থিতি সকলকে জানানো?

Most Popular

error: Content is protected !!