Sunday, May 19, 2024
spot_img
Homeদেশকর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়: ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটের মতো ত্রিশঙ্কু হল না এবার। বরং কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ক্ষমতায় ফিরল। ২২৪ টি আসনের ভিতর ১১৩টি পেলে সেই দল কর্ণাটকের শাসনদন্ড হাতে পেতে কোনও অসুবিধা হবে না। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কংগ্রেস এদিন ১৩৬ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। যা গত বিধানসভার ভোটের চেয়ে এবার কংগ্রেস অনেক বেশি আসন পেয়েছে।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

এই ফল বুঝিয়ে দিয়েছে এবার কংগ্রেস পূর্ণ ক্ষমতায় কর্ণাটক এ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পদ্ম শিবিরের হাল খুব খারাপ। প্রধানমন্ত্রী সহ বড় বড় নেতাদের নিয়ে এসে রোড শো সহ নানাভাবে ভোটারদের কাছে টানার বিষয়ে প্রচার করলেও লাভ কিছু হয়নি। ভোটাররা বিজেপিকে গ্রহণ করেনি। সেই কারণে ২০১৮ সালে বিজেপি যেখানে ১০৪ এর বেশি আসন পেয়েছিল। এবার সেখানে রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬৫ টি আসন জিতেছে।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

জনতা দল এস ১৯ টি আসনে জিতেছে। অন্যান্যদের ঝুলিতে গিয়েছে ৪ টি আসন। তবে এবার জনতা দল কিং মেকারের ভূমিকায় থাকতে পারবে না। বরং কংগ্রেস এবারে গোটা রাজ্যের শাসন পরিচালনা করবে। আসলে ২০১৮ সালে ত্রিশঙ্কু হয়ছিল। সেই কারণে কংগ্রেস ও জনতা দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। সেখানে জনতা দল ছড়ি ঘুরিয়েছে। আর সেই কারণে কিন্ত তা বেশিদিন টেকেনি। তার জেরে কংগ্রেস দলে ভাঙনের জেরে সেই জোট সরকারের পতন হয়।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

এরপর বিজেপি সরকার গঠন করে। যদিও সেখানে অন্তর্কলহ থাকার কারণে এক বছরের মাথায় বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রী বদল করতে হয়। শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকার চালিয়েছে। কিন্তু পদ্ম শিবিরের ভিতর ক্ষমতার লড়াই এবারে ভোটে পড়েছে। যার জেরে পদ্মর এই ভরাডুবি বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।ভোটে জনতা রেয়াত করেনি হেভিওয়েটদেরও। ভোটে হেরেছেন বিগত সরকারের ১১ জন মন্ত্রী তথা ডাকসাইটে গেরুয়া নেতারা।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

এদের অন্যতম হিজাব নিষেধাজ্ঞার মুখ বিসি নাগেশ। তবে মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই হার এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।পরাজিত হয়েছেন বোম্মাইয়া মন্ত্রীসভার শিক্ষামন্ত্রী কে সুধাকর। ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’। বিজেপির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সে স্বপ্ন আপাতত পূরণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং, উলটো দিকে গোটা দক্ষিণ ভারত ‘বিজেপি মুক্ত’ হয়ে গিয়েছে।অন্তত পরিসংখ্যান সেকথাই বলছে।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

কংগ্রেসের এ হেন সাফল্যের দিনও রাহুল গান্ধীর মুখে শোনা গিয়েছে ‘ভালবাসা’র কথাই। এই জয়ে তিনি জানিয়েছেন, “কর্ণাটক মে নফরত কি বাজার বন্ধ হো চুকে হ্যায়, অর মহব্বতকে বাজার খুল চুকা হ্যায়।” যার বাংলা তরজমা করলে দাঁড়ায়, ‘কর্ণাটকে ঘৃণার বাজার বন্ধ হয়েছে। ভালবাসার দোকান খুলে গিয়েছে।’ প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, “এটা কর্ণাটকের মানুষের জয়। কর্ণাটকে কংগ্রেস গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

এটা সবার জয়। কর্ণাটকের জয়। আমরা নির্বাচনে কর্ণাটকের জনতার কাছে পাঁচটি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সেটা পূরণ করব।” ফলাফলের দিন অবশ্য কংগ্রেসের যুবরাজ তেমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। শুধু বলে দিয়েছেন, আগামী দিনে অন্য রাজ্যেও এই সাফল্যের মডেলকে অনুসরণ করবে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে তাঁর চোখেমুখে দেখা গিয়েছে সন্তুষ্টির হাসি।এছাড়াও এদিন জয়ের আনন্দের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সময় দলের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শিবকুমার। বলেন, ‘‘দলের নেতাকর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। মানুষ আমাদের উপর ভরসা করেছেন। সমর্থন করেছেন।’’ এই জয় কারও একার নয় বলেও মন্তব্য করেছেন শিবকুমার। বলেছেন, ‘‘সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করেছি। সেই কারণেই এই সাফল্য এসেছে।’’ এদিকে জয় এক প্রকার নিশ্চিত হলেও, বিধায়ক কেনাবেচার আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না কংগ্রেস।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

গতবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরও যেভাবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সরকারের পতন হয়েছিল, তার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য ফল প্রকাশের আগেই বিধায়কদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় কংগ্রেস।এ দিন কর্নাটকের নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পরই কংগ্রেসের তরফে বিধায়কদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

তবে কংগ্রেসের এই বিরাট জয়ে বিধায়কদের আর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকারি পড়েনি কংগ্রেসের। তবে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে আজ বৈঠকে বসবে কংগ্রেস। কংগ্রেস সূত্রের খবর, আজকের বৈঠক থেকেই কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে পারে।এদিকে কংগ্রেসের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবে? তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

কর্ণাটকে বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে শাসন ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস

যদিও কর্নাটকে কংগ্রেস জয়ী হলে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লড়াই হবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার মধ্যে। সূত্রের খবর, এই দুই নেতার মধ্যে থেকেই একজনকে কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে।

Most Popular

error: Content is protected !!