Sunday, May 19, 2024
spot_img
Homeরাজ্যসায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

স্টাফ রিপোর্টার: অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের।। বৃহস্পতিবার গরু পাচার মামলাতে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।প্রায় দুশোরও বেশি পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে কল রেকর্ডের একাধিক তথ্য দেওয়া হয়েছে। সায়গল হুসেনের কল রেকর্ডের তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে চার্জশিটে।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

ইডির দাবি, গরুপাচারকারীরা প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের ফোনের মাধ্যমেই কথা বলতে অনুব্রতর সঙ্গে।এমনকি এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সায়গল হোসেন দিয়েছে বলেও চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, একাধিক তৃণমূল বিধায়করা তো বটেই, এমনকি পুলিশ আধিকারিকরাও সায়গল হুসেনের ফোনে ফোন করে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতেন বলেও ইডির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এমনকি এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সায়গল হোসেন দিয়েছে বলেও চার্জশিটে তদন্তকারী সংস্থা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

শুধু তাই নয়, একাধিক তৃণমূল বিধায়করা তো বটেই, এমনকি পুলিশ আধিকারিকরাও সায়গল হুসেনের ফোনে ফোন করে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতেন বলেও ইডির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, বীরভূমে পশু হাট বাজার থেকে গরু পাচারের মূল দায়িত্বে ছিল শেখ আবদুল লতিফ। বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদের গোটা সিস্টেম, অর্থাৎ, গরু হাট থেকে গরু সংগ্ৰহ থেকে শুরু করে তার ট্রান্সপোর্ট সব কিছুই আবদুল লতিফ দেখভাল করত বলে ইডির দাবি।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

বীরভূম থেকে আবদুলেরই নির্দেশে বিভিন্ন সময় হাটে গরু সংগ্রহ করা হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে ইডি। আর এই আবদুল লতিফ ও এনামুল হক, দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী তথা গরু পাচার কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত সায়গল হোসেনের। ইডি-র দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশেই তাঁর হয়ে প্রোটেকশন মানি সংগ্রহ করত সায়গল। গরু পাচার করে ট্রাক ভর্তি করে মুর্শিদাবাদে এনামুল হক ও জেএইচএম ব্রাদার্স-এর সোনার বাংলা অফিসে পাঠানো হত

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

পরে এটি মার্বেল শপে পরিণত হয়।মুর্শিদাবাদ অমরপুরে এই অফিস মাধ্যমে ইন্দো বাংলাদেশ বর্ডারে গরু পাচারের সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হত বলে চার্জশিটে দাবি করেছে ইডি। ইন্দো-বাংলাদেশ বর্ডারে এই অফিস প্রাথমিক ভাবে কন্ট্রোল করত এনামুল-ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবির ওরফে পিন্টু হাজি। ট্রাক চালকেরা প্যাড / টোকেন ব্যবহার করত গরু পাচারে সময়। এরপরে সেগুলি খান্দুয়া, নিমতিতা, গিরিয়া হয়ে মুর্শিদাবাদ যেত। ওই টোকেন দেখালে হয়ে যেত কাজ হাসিল। চার্জশিটে উল্লেখ, রাত ১১টা থেকে ভোর ৩ টে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গরু পাচার হত।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

গরুপাচারের কালো টাকা নিজে যেমন সুকৌশলে লুকিয়েছেন তেমনই যাঁরা টাকা জমা দিচ্ছেন তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার জন্যও কৌশল অবলম্বন করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রতর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করতে গিয়ে এমনই তথ্য পেয়েছে ইডি। গোয়েন্দারা চার্জশিটে জানিয়েছেন, আয়করের নজরদারি এড়াতে গরুপাচারের কোটি কোটি টাকা নগদে জমা পড়ত অনুব্রতর অ্যাকাউন্টে। অনুব্রত, তাঁর মেয়ে সুকন্যা ও অন্যান্য সহযোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার খোঁজ পেয়েছে ইডি।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

এই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন খতিয়ে দেখতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। দেখা দিয়েছে ৪৯,৯৯৯ টাকা করে দফায় দফায় নগদে টাকা জমা পড়েছে অ্যাকাউন্টগুলিতে। আয়কর আইন অনুসারে ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি একবারে নগদে ব্যাঙ্কে জমা করতে গেলে যে ব্যক্তি টাকা জমা দিচ্ছেন তাঁর প্যান নম্বর জানানো বাধ্যতামূলক। সেই নিয়মে ফাঁকি দিতে পাচারকারীদের ৪৯,৯৯৯ টাকা করে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন কেষ্ট। এমনকী, ব্যাঙ্কে গিয়ে নয়, এটিএমে টাকা জমা দিতে বলতেন অনুব্রত।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জেরায় অনুব্রত দাবি করেন, ব্যবসা ও জমির দালালি করে এই টাকা উপার্জন করেছেন তিনি। কিন্তু তার সমর্থনে তিনি কোনও নথি দেখাতে পারেননি। সুকন্যা দাবি করেছেন, বাবা যেখানে সই করতে বলেছেন করে দিয়েছি। কিন্তু বাবা, অনুব্রত মণ্ডলের বয়ান সে কথাকে সমর্থন করছে না। বাবা-মেয়ের বক্তব্যের পার্থক্যই তুলে ধরেছে ইডির তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিট।চার্জশিটে ইডি দাবি করেছে, জেরায় অনুব্রত জানিয়েছেন, স্ত্রী অধুনাপ্রয়াত ছবি মণ্ডল তাঁর কোনও ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন না।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

তিনি এবং কন্যা সুকন্যা মিলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মণীশ কোঠারির ‘গাইডেন্সে’ সমস্ত ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা সামলাতেন। আর এখানেই বাবা-মেয়ের বয়ানে অসঙ্গতি উঠে এসেছে। ইডির চার্জশিটে সুকন্যা নিজের বয়ানে বলেছেন, তিনি ব্যবসার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তাঁর বাবা তাঁকে যেখানে সই করতে বলতেন, তিনি তা-ই করতেন।অনুব্রত দাবি করেছেন, তাঁর লেনদেন-সহ আয়কর রিটার্ন জমার যাবতীয় বিষয়ে মণীশ সব জানেন। কিন্তু মণীশকে জেরা করে তদন্তকারীরা ওই টাকার উৎসের কোনও ব্যাখ্যা পাননি।

সায়গলের ফোনেই পাচারকারীদের সঙ্গে কথা অনুব্রতর! ব্যবসা সুকন্যাকে নিয়েই, দাবি চার্জশিটে

যদিও মণীশ তাঁর বয়ানে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সুকন্যাই ব্যবসার বিষয়ে নির্দেশ দিতেন। অনুব্রত এ নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতেন না। এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে সত্যি কে বলছেন? সত্যিই কি সুকন্যার ভূমিকা কেবল সই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, না কি অনুব্রতের বয়ান মতোই বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ে মণীশের ‘গাইডেন্স’ মতো ব্যবসা সামলাতেন? আর এই তথ্য সামনে আসার পরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।কড়া ভাষায় একযোগে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি এবং কংগ্রেস। মাথাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাম নেতৃত্ব।

Most Popular

error: Content is protected !!