Friday, May 24, 2024
spot_img
spot_img
Homeরাজ্যস্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

স্টাফ রিপোর্টার: চলছিল ক্লাস। চোখ ছিল ব্ল্যাক বোর্ডে আর মন দিয়ে শিক্ষকের কথা শুনছিল পড়ুয়ারা। আচমকাই ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে এক যুবক। ঠিক যেন অ্যাকশন মুভি! পিস্তল উঁচিয়ে একেবারে মার্কিন স্টাইলে স্কুলের ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েছিল ওই বন্দুকবাজ যুবক। ক্লাসঘরে ঢুকেই শিক্ষকের জন্য রাখা টেবিলের উপর দু’টি বিয়ারের বোতল রাখেন। পরে জানা যায় সেগুলো পেট্রল বোমা।হাতে ছিল বন্দুক।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

যেন ছাত্রছাত্রীদের পণবন্দি করার চেষ্টা! মার্কিনমুলুক নয়, শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা খোদ মালদার কালিয়াচকের মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাই স্কুলে।স্থানীয় সূত্রে খবর, রোজকার মতো এদিন ক্লাস চলছিল মালদহের স্কুলটিতে। আচমকাই সপ্তম শ্রেণির ক্লাসরুমে পিস্তল হাতে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। তাঁর কাঁধে ছিল ব্যাগ, এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে ধরা সাদা কাগজ। ক্লাসঘরে ঢুকেই টেবিলের উপর দু’টি বিয়ারের বোতল রাখেন।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

পরে জানা যায় সেগুলো পেট্রল বোমা।বন্দুক হাতেই ওই যুবক জানিয়েছিলেন, আমার ছেলেকে টিএমসি পার্টি পুলিশ প্রশাসন অপহরণ করেছে। আমার স্ত্রীকে বলেছে, তোমার স্বামীর মতো এমন বাজে চরিত্রের লোক হয় না। সেই রেকর্ড আমার কাছে আছে। আমাকে বলেছে, তোমার স্ত্রীর চরিত্র খারাপ। টিএমসির নেতা, আমাদের ওই মৃণালিনীও একই কথা বলেছে।আমি মুখ্যসচিবকে অভিযোগ জানিয়েছি। ডিএম এসপিকেও অভিযোগ জানিয়েছি। টিএমসি নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। এই কাজ করার আগে লাইভ ফেসবুক করেছিলাম।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

আমি বলেছিলাম এনিয়ে পদক্ষেপ না নিলে ফেসবুকের মাধ্যমে বন্দুক কেনার অর্ডার দিয়েছিলাম। আমার ছেলে আর স্ত্রীকে এখানে নিয়ে আসতে হবে। প্রশাসন আমাকে এখনও পর্যন্ত ডেকেও জিজ্ঞাসা করেনি।আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। আতঙ্কে কাঁপতে থাকে তারা। ক্লাসের বাইরে থেকে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এদিকে খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পৌঁছয় স্কুলে। আসেন মালদহের পুলিশ সুপারও।স্কুলের গেটের বাইরে ভিড় জমান উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। হুলুস্থুলু পড়ে যায় এলাকায়।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

আচমকাই নীল রঙের পোশাক পরা এক যুবক ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই যুবকের উপর। দুজনেই ছিটকে মাটিতে পড়ে যায়। তারপরই তাঁকে ধরাশায়ী করে কেড়ে নেওয়া হয় বন্দুক। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে। পড়ুয়াদের দ্রুত ক্লাস থেকে বার করা হয়। হুড়োহুড়ি পড়ে যায় তাদের মধ্যে। চরম নাটকীয়তার মধ্যে যুবককে গ্রেফতারও করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বন্দুকবাজ আসলে স্থানীয় বাসিন্দা। তার মানসিক কিছু সমস্যা থাকতে পারে। বেল্ট দিয়ে পায়ের সঙ্গে বাঁধা ছিল দুটি ছুরি।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

একেবারে পরিকল্পনা করে সে ঢুকে পড়েছিল ওই বন্দুকবাজ। এমনকী যে বোতল দুটি সে নিয়ে গিয়েছিল সেটাকে সে অ্যাসিড বোমা হিসাবে ব্যবহার করার ছক কষছিল।এদিকে ঘটনার পরেই প্রশ্ন উঠছে একজন বন্দুক নিয়ে স্কুলে ঢুকে পড়ল অথচ কেউ জানলই না। তবে পুলিশ এনিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না সেটা দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলে সশস্ত্র অবস্থায় ঢুকে পড়া ওই যুবকের নাম দেব বল্লভ (৪৪)। যুবকের বাড়ি পুরাতন মালদহের মুচিয়া নেমুয়া এলাকায়।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

দেবের প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। ছেলে রয়েছে মায়ের হেফাজতে। কিন্তু বন্দুক হাতে দেব বল্লভের দাবি, তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ। স্ত্রীকে খুঁজে দিচ্ছে না প্রশাসন। তাই এই পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।পুলিশ জানিয়েছেন, যুবকের কাছ থেকে অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।কী ভাবে ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢোকেন সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনও অভিভাবকের পরিচয় দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ব্যাগ এবং তাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

স্কুলের এক শিক্ষিকা বলেন,আমাদের স্কুলের ৭০টি বাচ্চাকে পণবন্দি করে রেখেছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম ওটা খেলনা। কিন্তু পরে বোঝা যায় বন্দুকটি আসল।উনি বার বার বলছিলেন ওঁর স্ত্রী নিখোঁজ। এক বছর ধরে পাচ্ছেন না। কেউ ওঁকে গুলি করলে উনিও গুলি করবেন। তবে পুলিশের পোশাকে কাউকে দেখলেই উত্তেজিত হয়ে পড়ছিল ওই যুবক। সেকারণে পুলিশ কর্তা পোশাক বদলে গেঞ্জি পরে তাকে চেপে ধরে।শিক্ষিকার আশঙ্কা, মঙ্গলবার বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।এদিকে মালদহের স্কুলে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের কাজের প্রশংসা করেছেন।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

তিনি বলেছেন, ‘‘বাচ্চাদের পণবন্দি করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশ, শিক্ষক এবং সাংবাদিকেরা দারুণ বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চক্রান্তকে ধাক্কা মেরে টেনে ফেলে দিয়েছেন!’’তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিচয়পত্র ছাড়া ওই বন্দুকবাজের স্কুলে কী করে ঢুকল, তা নিয়েও। মমতা বলেছেন, ‘‘পরিচয়পত্র থাকে তো। পরিচয়পত্র ছাড়া তো এখন পড়ুয়ারাও স্কুলে ঢুকতে পারে না!’’মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ‘‘আমি স্কুল কমিটিকে বলব, স্কুল খোলার পর স্কুলে দু’জন দারোয়ানের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁরা প্রয়োজনে পুলিশের কাছ থেকেও সাহায্য চাইতে পারে।

স্কুলে আচমকাই বন্দুক-পেট্রল বোমা নিয়ে যুবকের তাণ্ডব, পণবন্দি পড়ুয়াদের!

পরিচয়পত্র ছাড়া স্কুলে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। তবে গ্রামের মানুষ সহজ-সরল হন, তাঁরা অভিভাবক ভেবে হয়তো ঢুকতে দিয়েছেন। কিন্তু এখন সতর্ক হতে হবে।’’ এদিকে এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কলকাতাকে লন্ডন বানাবেন। আমেরিকায় শুনেছি এরকম বন্দুকবাজদের ঘটনা ঘটে। এখন গ্রামেগঞ্জে ঘটছে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা কোথায় দাঁড়িয়েছে। এভাবে রাজ্য চলতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী কন্ট্রোল হারিয়েছেন।’

Most Popular

error: Content is protected !!