Sunday, May 19, 2024
spot_img
Homeরাজ্য'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

‘রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?’ প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার : রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে হাওড়ার শিবপুরের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল হুগলির রিষড়া। আগামী ৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রয়েছে হনুমান জয়ন্তী। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আগেই জানিয়েছিল যে, রামনবমীতে শুরু করে হনুমান জয়ন্তী পর্যন্ত চলবে টানা কর্মসূচি। এ ছাড়াও রাজ্যের অনেক জায়গায় ওই দিন বজরঙ্গবলীর পুজো এবং শোভাযাত্রা হয়।সেই উৎসব ঘিরে যাতে রাজ্যের কোথাও যাতে অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয় তার জন্য আগাম সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে সোমবার প্রশাসনিক সভায় বক্তৃতা করেন মমতা।। সেই সভা থেকে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বিজেপির আমলে দেখছি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা হচ্ছে। রমজান মাসের রোজা চলছে, অন্নপূর্ণা পুজো রয়েছে। সেখানে রামনবমীর মিছিল পাঁচ দিন ধরে হবে কেন?রামনবমীর দিন মিছিল করলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বন্দুক নিয়ে মিছিল চলবে না।অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছা করে সংখ্যালঘু এলাকা ঢুকে যাচ্ছে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘অনুমতি ছাড়াই মিছিল করছে। এত রাস্তা থাকা সত্ত্বেও ঢুকে যাচ্ছে সংখ্যালঘু এলাকায়।

'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

রমজান মাসে ফল খাওয়া হয়। সেই ফলের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। বন্দুক নিয়ে নাচ করছে।’’এর পরেই সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার কথা বলেন। আগাম সতর্কতা জারি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রশাসন ও আমাদের ছেলে মেয়েদের বলছি ৬ তারিখ সতর্ক থাকবেন। আমরা বজরংবলীকে সবাই সম্মান করি। কিন্তু তা নিয়ে কোনও হিংসা যেন না হয়।” যেকোনও ধরনের অশান্তি রুখতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসারও বার্তা দেন তিনি। আন্দোলনের নামে কোনও ধরনের ভাঙচুর বরদাস্ত করা হবে না বলেও বার্তা দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “বিজেপির থেকে টাকা খেয়ে অনেকে রাস্তা ভাঙছেন।

'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

রাস্তা তৈরি করতে অনেক টাকা লাগে, তা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। একটা আইন রয়েছে, যাঁরা সরকারি বা বেসরকারি সম্পতি ভাঙচুর করছেন, তাঁদের সম্পত্তি সরকার নিয়ে নেবে। সেই সম্পত্তি নিলামে তুলে ক্ষতিগ্রস্থদে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”এদিনের সভামঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারকেও তুলোধনা করেন মমতা।কেন্দ্রের সরকারকে ‘বেইমান, লুটেরা, দাঙ্গাবাজ, চোর-ডাকাত’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ১৭ লক্ষ মানুষের টাকা দেয়নি কেন্দ্র। রাস্তা তৈরি, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজের টাকাও আটকে রেখেছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “পাপিষ্ঠ ওরা। ওদের অভিষ্ট পূর্ণ হবে না।”

'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

সদর্পে তাঁর ঘোষণা, “পান্তা ভাত খেয়ে থাকব। তবু সিপিএম-বিজেপির কাছে মাথা বিক্রি করব না।” শেষে কেন্দ্রের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন,”টাকা দিচ্ছে না। দাঙ্গা বাঁধাচ্ছে। টাকা দিচ্ছ না কেন, কৈফিয়ৎ দাও।” স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই সিপিএমকেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ একসময় খেজুরিতে ঢোকা যেত না। সিপিএম-এর অত্যাচারে মানুষ অত্যাচারিত ছিল। সিপিএম-এর আমলে দেখছি গুন্ডাবাজি, পুকুরে বিষ মিশিয়ে দেওয়া, মানুষের পা কেটে দেওয়া, মানুষকে বয়কট করা, নরমুন্ডু নিয়ে খেলা করা। আর বিজেপির আমলে দেখছি দাঙ্গাবাজি।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “চণ্ডীপুরে আমার গাড়ি আটকে পেট্রল বোমা মারতে গিয়েছিল।

'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

কোলাঘাটে আমার গাড়িতে মদের বোতল ছোড়া হয়েছিল। আমার উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। আমি যত দিন বাঁচব আমার আন্দোলন কেউ রুখতে পারবে না। আমার সংগ্রামী জীবন কেউ রুখতে পারবে না। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম আছি থাকব।” এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ৫ দিন রামনবমী পালন করা প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর প্রশ্ন, ‘রামনবমীর মিছিল একদিনে হলে পুলিশ সামাল দিতে পারবেন তো?’ এদিন কোন্নগরে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

'রামনবমীর মিছিল ৫ দিন কেন?' প্রশ্ন মমতার, হনুমান জয়ন্তীতেও সতর্ক থাকার বার্তা

পুলিশ তাঁকে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে যাওয়ার পথে আটকে দেয় বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের দাবি, এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তাই কাউকে যেতে দেওয়া যাবে না। যদিও সুকান্তের অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজনের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এলাকায়। অথচ বিজেপির লোকজন যেতে চাইলে আটকে দিচ্ছে পুলিশ। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অথচ তৃণমূলের সাংসদ, চেয়ারম্যান ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের জন্য কি কোনও ধারা নেই? তাঁরা গেলে যদি ধারা লঙ্ঘন না হয়, তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কীভাবে হয়? সমস্ত বিষয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাব। আমাদের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গেও কথা হয়েছে।”

Most Popular

error: Content is protected !!