খবরদেশ

‘ভয় দেখছি মোদীর চোখে, প্রশ্ন করেই যাব’: রাহুল

সংবাদ সংস্থা: ফৌজদারি মানহানি মামলায় তাঁকে ২ বছরের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। খারিজ হয়েছে সাংসদ পদ। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও আক্রমণের ঝাঁজ কমাতে দেখা যায়নি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে।সাংসদ পদ খারিজের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাহুল গান্ধী।শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, ‘‘মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই তাঁর বিমানে সফরসঙ্গী আদানির ছবি নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম। আমি একটাই প্রশ্ন করেছিলাম।

আদানিজির পরিকাঠামোর ব্যবসা আছে, কিন্তু ব্যবসায় খাটানো টাকা তাঁর নয়। আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এই ২০ হাজার কোটি টাকা কার? মিডিয়ার রিপোর্ট থেকে তথ্য নিয়েছি। নরেন্দ্র মোদী ও আদানির সম্পর্ক নতুন নয়। নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন থেকেই এই সম্পর্কের শুরু।কিছু মন্ত্রী আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন। আমি নাকি বিদেশি শক্তির সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু এমন কোনও কাজই আমি করিনি। আমি প্রশ্ন করা বন্ধ করব না। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং আদানির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকব।

সংসদে বক্তব্য রাখা আমার অধিকার। কিন্তু আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছিল না।আমি এখানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে এসেছি। আমি তাঁদের ভয় পাই না। এটা আমার ইতিহাসে নেই। আদানি এবং নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সম্পর্ক কী, তা আমি জিজ্ঞাসা করতে থাকব।সংসদে ফের যাতে আদানিকে নিয়ে কোনও ভাষণ দিতে না পারি, তার জন্যই আমার সাংসদপদ বাতিল করা হল। আদানিজিকে নিয়ে ফের কী না কী বলব, তাতে ভয় পেয়েছেন মোদী। তাঁর চোখে আমি ভয় দেখতে পেয়েছি। তাই আমাকে আর সংসদে দেখতে চান না তিনি। প্রথমে তাই নজর ঘোরানো হল। তার পর আমার সাংসদপদ বাতিল করা হল।

মোদী এবং আদানি, এই দু’জনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক। ভুয়ো সংস্থা মারফত ২০ হাজার কোটির বিনিয়োগ হল কীভাবে? প্রতিরক্ষা সংস্থার তরফে বিনিয়োগ হল কীভাবে? প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছেও এর কোনও জবাব নেই।’’ রাহুলের হুঙ্কার, ”আমার নাম সাভারকার নয়। আমি গান্ধী। ক্ষমা চাইব না।আমাকে আজীবনের জন্য খারিজ করে দিন। জেলে পাঠান। আমি থামব না।আমি সবসময় সত্যি কথা বলি।আমি দেশের লোকতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।” এদিকে বিতর্কের মধ্যেই পালটা সুর চড়িয়েছে বিজেপিও।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদের দাবি, উচ্চ আদালতে আবেদন করে রাহুল যদি সুরাত আদালতের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ আনতে পারতেন, তবে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হত না। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কংগ্রেসে তো নামজাদা আইনজীবীর অভাব নেই। তবে কেন উচ্চ আদালতে আবেদন জানানো হল না?’’ এর পর তাঁর অভিযোগ, কর্নাটকের আসন্ন বিধানসভা ভোটে রাহুলকে সামনে রেখে সহানুভূতি কুড়োতে চায় কংগ্রেস। তাই এমন কৌশল।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!