Sunday, April 14, 2024
spot_img
Homeরাজ্য'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

‘চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা’: পার্থ

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে সুজন চক্রবর্তী, দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর নাম।বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে ঢোকার মুখে পার্থ বলেন, ‘‘যে সুজন চক্রবর্তী, দিলীপবাবু, শুভেন্দুবাবুরা বড় বড় কথা বলছেন, তাঁরা নিজের দিকে দেখুন। উত্তরবঙ্গে তাঁরা কী করেছেন? ২০০৯-১০-এর সিএজি রিপোর্ট পড়ুন। সমস্ত জায়গায় তদ্বির করেছেন, কারণ, আমি তাঁদেরকে বলেছি করতে পারব না। আমি নিয়োগকর্তা নই। এ ব্যাপারে কোনও সাহায্য তো দূরের কথা আমি কোনও কাজ বেআইনি করতে পারব না।

'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

শুভেন্দু অধিকারীর ২০১১-১২ সালটা দেখুন না! দেখুন না, কী করেছিলেন তাঁরা।’’ পার্থ নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত হিসাবে নাম করেছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের। পার্থের অভিযোগের পাল্টা দিলীপ বলেন, ‘‘জেলে গিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। যে সময়ের কথা বলেছেন তখন আমি রাজনীতিতে আসিনি। এ সব চক্রান্ত করে লাভ হবে না। প্রমাণ হলে জেল খাটব। কিন্তু উনি তো বান্ধবীসমেত জেলে গিয়েছেন। টাকার পাহাড় সবাই দেখেছেন।’’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মাথা গোলমাল হলে অনেক কিছু হয়। ওঁর সার্কিটটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। ২০০৯-১০ সালের কথা বলছেন, সেই সময় পার্থ কোথায় ছিলেন?

'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

তখন তো উনি সরকারের কেউ না বলেই আমার ধারণা। উনি তো বিরোধী দলে! মাথাটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। কেন হবে না বলুন তো! অনুব্রতের পাশে দল আছে, পার্থের পাশে কেউ নেই। দিলীপ, শুভেন্দুর কথা বলতে পারব না। শুভেন্দু তখন তৃণমূলে ছিলেন। বাম আমলে এ রকম টাকার খেলা হয়েছে, খুঁজে বার করতে পারবেন?’’ পার্থ চট্টোপাধ্যায় আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন বেলা ১২টা ৫ মিনিটে। আর ওই তিন বিরোধী নেতার নাম উল্লেখ করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ টুইট করেন বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে। তাঁর মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় একসময় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তাছাড়া তিনি নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত।

'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

তাই তাঁর দাবি অনুযায়ী সুজন চক্রবর্তী, দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীদের গ্রেপ্তার করা উচিত। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।স্রেফ ১৮ মিনিটের ব্যবধানে পার্থ এবং কুণালের মন্তব্য নিয়ে নয়া জল্পনা দানা বেঁধেছে। বিরোধীদের দাবি, পার্থ এবং তৃণমূল একই সুরে কথা বলছে। যদিও বিরোধীদের দাবি নস্যাৎ করেছেন কুণাল।শুধু তাই নয়, আট মাস জেলবন্দি থাকার পর এদিন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি কতটা সৎ।তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে যে লোকটা রাস্তায় বসে কাজ করেছে।

'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

করোনা সামলেছে, সে লোকটা চুরি করতে পারে না। যে সেটা জানে, সে আমাকে নিয়ে খারাপ কিছু লিখতে পারে না।’ মন্ত্রী থাকাকালীন কীভাবে রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করেছেন, সে কথাই কার্যত মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পরপর ৫ বার একই কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন, সে কথাও উল্লেখ করেছেন পার্থ। তিনি তিনি বলেছেন, ‘আমি একই জায়গা থেকে পাঁচ বার জিতেছি।

'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

কখনও অন্য কোথাও থেকে লড়িনি। যদি সৎ না হতাম তাহলে মানুষ কী জেতাত?’এদিন আদালতে প্রবেশ করার আগে পার্থ গাড়ি থেকে নামার পরই আদালত চত্বরে শোনা যায় চোর-চোর স্লোগান। তবে পার্থর দাবি, বেহালার মানুষ তাঁকে চোর বলতেই পারেন না। পার্থর কথায়, ‘ওরা সিপিএমের লোক।’ চুরির প্রমাণ নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জও করেছেন তিনি।ফের খারিজ হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন। ফের ৭ দিনের জন্য তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠাল আলিপুর জজেস কোর্ট। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে পার্থর আবেদন মেনে তাঁকে বলতে দেন বিচারক।

'চাকরির সুপারিশ চেয়েছিল সুজন, দিলীপ, শুভেন্দুরা': পার্থ

এদিন তিনি আদালতে ৯ মিনিট বলার সুযোগ পান। আদালতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে অন্ধকারে আছি। জীবদ্দশায় এই মামলার রায় দেখে যেতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। ৮ মাস আমাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় কাজ করেছি। ভালো পরিবারের ছেলে আমি পালিয়ে যাব না।বিচারককে পার্থ প্রশ্ন করেন, মন্ত্রী হওয়া কি কোনও অপরাধ। নিয়োগের অধিকার আমার হাতে ছিল না। নিয়োগ করেছে বোর্ড। জামিনের জন্য কাতর আবেদন জানান পার্থ। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি।

Most Popular