Sunday, April 14, 2024
spot_img
Homeরাজ্য'আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না',সরকারি কর্মীদের বার্তা...

‘আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না’,সরকারি কর্মীদের বার্তা মমতার

স্টাফ রিপোর্টার: মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রীয় সরকারের হারে ডিএ-র দাবিতে চলছে অবস্থান বিক্ষোভ।এই পরিস্থিতিতে ডিএ’র দাবিপূরণ নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সোমবার বিধানসভায় প্রথমে ডিএ নিয়ে কথা বলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘ডিএ নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। তা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘোষণা হয়েছিল ডিএ। প্রস্তাব হয়নি। পঞ্চম পে কমিশনে যা বকেয়া রেখে গিয়েছিল তাও দিয়েছি।

'আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না',সরকারি কর্মীদের বার্তা মমতার

কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। আমাদের রাজ্যে দেওয়া হবে। সেটা কি বন্ধ করে দেওয়া হবে? এটাই কি চাইছেন বিরোধীরা?’’ এর পরে চন্দ্রিমা এমন দাবিও করেন যে, পেনশন না দিলে রাজ্যের ২০ হাজার কোটি টাকা বাঁচত।পরে মুখ্যমন্ত্রীও নিজের বক্তব্য জানান। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো রাজ্যের থেকে আলাদা। আর কেন্দ্রের সরকার কত দিন ছুটি দেয়? আমরা দুর্গাপুজোয় দশ দিন ছুটি দিই। ছট পুজোয় ছুটি দিই।’’ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাম আমলের প্রসঙ্গও টেনেছেন।

'আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না',সরকারি কর্মীদের বার্তা মমতার

বলেন, ‘‘সিপিএম আমলের ডিএ বাকি ছিল। ৩৪ বছরে পুরো ডিএ দেয়নি। ৯৯ শতাংশ ও ৬ শতাংশ মিলিয়ে আমরা ১০৫ শতাংশ ডিএ দিয়েছি।’’সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, “কত চাই? কত দিলে সন্তুষ্ট হবেন? দয়া করে আমার মুন্ডুটা কেটে নিন। তাহলে যদি আপনারা সন্তুষ্ট হন। আমাকে যদি পছন্দ না হয় তাহলে আমার মুন্ডুটা কেটে নিন। কিন্তু এর থেকে বেশি আমার কাছে আর পাবেন না।” অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের জন্য বরাদ্দ পেনশনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “দেশের কোনও রাজ্য এখন অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন দেয় না।

'আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না',সরকারি কর্মীদের বার্তা মমতার

আমরা দিই। তাহলে কি পেনশন বন্ধ করে দেব? পেনশন না দিলে রাজ্য সরকারের হাতে অনেক অনেক টাকা থাকবে। ডিএ দিতে পারব।” কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ডিএ নিয়ে মমতার সওয়াল, “যতটা সম্ভব রাজ্য সরকার দিচ্ছে। ডিএ বাধ্যতামূলক নয় যে দিতেই হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের স্কেল আলাদা। রাজ্য সরকারি কর্মীরা ছুটিও পান অনেক বেশি।

'আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না',সরকারি কর্মীদের বার্তা মমতার

দু’টোকে এক করে ফেললে চলবে না।”এদিকে ডিএ নিয়ে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের একযোগে প্রতিবাদ করেন বিরোধীরা। শুভেন্দু বলেন, ‘প্যাঁচে পড়েছে, ডিএ ওনাকে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় হারে দিতে হবে। কী করে ঘোলা জল ওনাকে খাওয়াতে হয় ভালো করে জানি। ওনাকে কী করে লাইনে আনতে হয় সেটা জানি আমি।’ এদিন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও বিধানসভা থেকে সোজা শহিদ মিনারে যান।

'আমার মুণ্ডু কেটে নিন, এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব না',সরকারি কর্মীদের বার্তা মমতার

নওসাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা তো ওনার মুন্ডু চায়নি। আর এনাদের হাতে তলোয়ারও নেই, পেন আছে। পেনের খোঁচা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। উনি ডিএ দিতে না পারলে মুন্ডু কাটাতে হবে না ওনাকে ছেড়ে দিতে বলুন না। অন্যজন সুযোগ পাক।’

Most Popular