Sunday, April 14, 2024
spot_img
Homeরাজ্যলন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী...

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় ঃ ৯৯ সালের মে মাস। গরম পড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে বদলি হল এই প্রতিবেদকের। চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান জেলা নদীয়াতে। সেখানে জেলা সদর কৃষ্ণনগর এ তল্পিতল্পা নিয়ে যেতে হল। এখানেই এই কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণিতে এক সময় জন্মেছিলেন যুগপুরুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গৃহী যোগী শ্যামাচরণ লাহিড়িবাবা। এই পঙ্কিলময় সংসারে থেকে স্বরোজগারের ভিতর দিয়ে সব কাজ করেও কীভাবে অন্তর্সাধনায় যুক্ত থেকে নিজের পশুরূপী মানুষের খোলসকে শুদ্ধ করতে হয়। জগৎবাসীকে তিনি সেই পথ প্রথম দেখিয়ে যান। এমন একজন মহাপুরুষের জন্মস্থানের কাছাকাছি পাত্রবাজারে থাকার সৌভাগ্য যে হবে তা কখনও ভাবতে পারিনি।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

এখানেই বর্তমান কাগজের কর্মরত সাংবাদিক হিসেবে সংবাদসূত্রে আলাপ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রথিতযশা লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার সদ্য প্রয়াত কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন এবং শিল্প – বাণিজ্য মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (জুলুবাবু) সত্যব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সেই যোগসূত্র পরবর্তী সময়ে উভয়ের ভিতর এক মানবিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এত অর্থ, প্রতিপ্রত্তি, যশ ওঁনার। কিন্ত এমন বড় একজন মানুষের ভিতর একটা অন্য সহানুভূতিশীল হৃদয় থাকতে পারে তা কাছাকাছি না গেলে বোঝা যেত না। আসলে সত্যবাবুর গম্ভীর মুখমন্ডল, তার সঙ্গে কানের দুদিকে বিশাল বড় জুলপি একটা রাশভারী চেহারা তৈরি করে দিয়েছিল। ফলে এমন চেহারার সামনে দাঁড়িয়ে কোনও কথা বলা কঠিন ছিল।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

তাছাড়া উনি খুব বেশি কথাও বলতেন না। ফলে প্রথম দিকে ওঁনার সম্পর্কে অনেক কাহিনী শুনলেও আগ বাড়িয়ে আলাপ করতে যাইনি। পরে অবশ্য সেই দূরত্ব ঘুচে গিয়েছিল। আর সেটা সম্ভব হয়েছিল ব্যারিস্টার জুলুবাবুর সহধর্মিনী উর্মিবালা মুখোপাধ্যায়ের জন্য। মাতৃসমা তাঁর স্নেহ পরশ কখনও ভোলা যাবে না।যাইহোক কৃষ্ণনগর যাওয়ার কয়েকমাস কাটতে ই আচমকা অকাল লোকসভা নির্বাচন চলে এলো। সাজো সাজো রব। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেন জুলুবাবু। এর আগেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোনও বার জয় পাননি। তবে অকাল লোকসভা ভোট জুলুবাবুর ভাগ্য সহায় হয়েছিল। সেবার বাম দুর্গ কৃষ্ণনগর থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল সিপিএমের প্রাক্তন এমপি তখনকার দাপুটে জেলা সম্পাদক রেনুপদ দাসকে।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

আসলে রেনুপদ বাবুর সঙ্গে ওই সময়কার প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাস মহাশয়ের সঙ্গে একটা ঠান্ডা লড়াই চলছিল। রেনুপদ বাবু কে জেলা সম্পাদক পদ থেকে সরাতে চাইছিল নেতৃত্ব। কিন্ত তা সরাসরি নয়। কৌশলে করার জন্য রেনুপদবাবু কে ফের লোকসভা র প্রার্থী করে দেওয়া হল। তাতে করে উনি জিতে কিংবা হেরে গেলে রেনুপদ বাবুকে সম্পাদক পদ থেকে সরাতে কোনও ঝামেলা হবে না। ফলে সিপিএম দল থেকে দ্রুত রেনুপদ বাবুর নামে দেওয়াল লেখা হয়ে গেল। ধুরন্ধর রেনুপদ বাবু এই কৌশল বুঝতে পেরে যান। তিনি মাঝপথে অসুস্থ র ভান করে কল্যানী হাসপাতালে ভরতি হন। ফলে অনিলবাবুরা বিপাকে পড়ে যায়।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

শেষ পর্যন্ত অনেক টানাপোড়েনের পর প্রার্থী বদল করতে হল। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলার কো অর্ডিনেশন কমিটির দাপুটে নেতা সরকারী কর্মচারী দিলীপ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হল। বলা যায় বাম দলের এই প্রার্থী বদল সত্যবাবুর জয়ের পথকে কিছুটা হলেও এগিয়ে দিয়েছিল। তখন বাম রাজত্ব। সেই কারণেই তৃণমূল দল সিপিএমকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে জোট বেধেছিল। এর ভিতর একজন কর্মচারী নেতা প্রার্থী হওযাতে ডানপন্হী প্রভাবিত ফেডারেশন এর লোকজন ও জুলুবাবু কে সহযোগিতার জন্য নেমে গেল। এছাড়া রেনুপদ বাবুর ইন্ধন তাঁর লোকজন ও ভিতরে ভিতরে অন্তর্ঘাতের জন্য কলকাটি নাড়তে লাগল। রাজনৈতিক এই মজার জমজমাট আবহাওয়ার ভিতর জোর কদমে প্রচার চলছিল।
একদিন খুব ভোরে ফোনের ক্রিং ক্রিং শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

খুব দ্রুত উঠে পাশের ঘরে গিয়ে ফোন ধরলাম। অন্যপ্রান্ত থেকে গম্ভীর আওয়াজ, বরুণ সেনগুপ্ত বলছি। ভারতের সংবাদজগতে ঋষিতুল্য প্রতিবাদী চরিত্র। লোভ জয় করে মাথা উঁচু করে সহজ সরল ভাবে চলতে শিখিয়েছে ন তিনি। পাশাপাশি কোনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে শেখাননি তিনি। এমন একজন অগ্রজ গুরু প্রবাদপ্রতিম মানুষের ফোন পেয়ে আমার তখন পা কাঁপছে। আমার উনি মালিক ও সম্পাদক এটা ঠিক। কিন্ত বরাবর একজন পিতার মতো অভিভাবক সুলভ স্নেহের আচরণ করেছেন। খবর করার ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এমন একজনের ফোন পেয়ে কিছুটা অবাক হলাম। গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। কি বলবো তা ভাবতে যাচ্ছি, সেই সময় উনি খোলসা করলেন। বললেন, লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর এ জুলুবাবু প্রার্থী হয়েছেন। বিশিষ্ট ভদ্রলোক। ওই কেন্দ্রটি ভালো করে ঘুরে আমজনতার সঙ্গে কথা বলে গুরুত্ব সহকারে প্রতিবেদন তৈরি করবে। সমস্ত দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি জুলুবাবুর সঙ্গে আলাপ করে নিও।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

মনে আছে সেবার এইভাবে আরও বার তিনেক এমন ভোরে তিনি ফোন করেছেন। খবরের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।
যাইহোক এই লোকসভা কেন্দ্রটির ভোট যত এগিয়েছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। জুলুবাবুর সমর্থনে সেই সময় শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত অটল বিহারী বাজপেয়ী এসেছিলেন। মনে আছে সেই সভা হয়েছিল কৃষ্ণনগর কলেজ ময়দানে। ভিড়ে তিলধারণের জায়গা ছিল না। সেই সভার শেষে অটল বিহারী বাজপেয়ী র সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি বসানোর একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম তখনকার জেলা বিজেপি সভাপতি সুকল্যাণ বাবুর কাছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার এত ঘেরাটোপ যে তা প্রথম দিকে বাতিল করে দিল।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

হতাশ হয়ে গেলাম। শেষ পর্যন্ত সুকল্যাণবাবু র চেষ্টা ও জুলুবাবুর কাছে প্রতিবেদকের পাঠানো চিরকূট এ বরফ গলেছিল। অটল বিহারী জি আমাদের নিয়ে মুখোমুখি বসেছিলেন। সেইবার একেবারে কাছ থেকে দেখা অটলজিকে। প্রশ্ন করার ফাঁকে ফাঁকে ওঁনার কথাও শুনছিলাম মুগ্ধ হয়ে। ওইবার উনি প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন।
সত্যব্রতবাবু ওইবার প্রথম কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেন। মন্ত্রী ও হন। এ ব্যাপারে বর্তমান কাগজে প্রকাশিত সেই সময়ের ধারাবাহিক নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তাঁকে জয়ের জায়গাতে নিয়ে যেতে অনেকটাই সাহায্য করেছিল। বিশেষ করে সেই সময় নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিপিএম প্রার্থী দিলীপ চক্রবর্তীকে একদিনে স্বেচ্ছাবসর, পেনশন সহ চাকরিগত সরকারি অবসরকালীন সব সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। যা সরকারি আইনে করা যায় না। এই গোপন খবরটি ‘বর্তমান’ কাগজে এক্সক্লুসিভলি বের হয়।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

তা নিয়ে ভোটারদের ভিতর দারুণ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের ভিতর। কারণ এইভাবে তখনকার সময়ে কি কো- অর্ডিনেশন কি ফেডারেশন কোনও সংগঠনের অবসরপ্রাপ্তরা এই সুবিধা পেতেন না। পেনশন এর কাগজ জমা দেওয়ার পর তা পেতে কালঘাম ছুটে যেত। এই খবরের জেরে সরকারি কর্মচারীদের ভোট অধিকাংশ চলে গিয়েছিল জুলুবাবুর দিকে। যাইহোক ভোটে জিতে যাওয়ার পর কৃষ্ণনগর এ দলীয় অফিসে একদিন দেখা। জুলুবাবু ডাকলেন। যেতে চাইলাম না। কারণ খবরের প্রয়োজন ছাড়া নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চাইতাম না। পেশাগত কারণে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখতাম। আচমকা ওঁনার স্ত্রী উর্মিবালা দেবী ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন। আমাকে দেখে বললেন তোমার নাম বিমল। ঘাড় নাড়লাম।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

তোমার কথা খুব বরুণবাবুর কাছে শুনেছি। ভিতরে এসো। তাছাড়া তুমি আমার ছেলের মতো । অত সঙ্কোচ কেন? এসো এসো। এমন মমতা মাখানো সুরে বললেন কেমন যেন বিবশ হয়ে গেলাম। অগত্যা ভিতরে যেতেই হল। এরপর জুলুবাবুর সামনে বসে উর্মিবালা দেবী অনেক গল্প করলেন। এবার বের হয়ে আসছি। তখন ফের আটকে দিলেন। বললেন আমরা ফুলিয়া যাচ্ছি। তোমাকে যেতে হবে। তাতে সায় দিলেন জুলুবাবুও। বললাম আমাদের খবর পাঠাতে হবে। কোনও কথা শুনলেন না ম্যাডাম। ওইদিন আমাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেলেন ফুলিয়া কৃত্তিবাসের জন্মভিটেতে। গাড়িতে যত্ন করে উর্মিমালা দেবী কমলালেবু খাওয়ালেন। এসব দেখে মিটিমিটি হাসছিলেন জুলুবাবু। এইভাবে আলাপ থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

মনে আছে পরবর্তী সময় ২০০১ এর বিধানসভা ভোটের সময় কৃষ্ণনগর শহর থেকে জুলুবাবুর স্ত্রী উর্মিবালা দেবীকে বিজেপি প্রার্থী করতে চেয়েছিল। এ নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে ছিলেন জুলুবাবু। উর্মিবালা দেবীর মত ছিল। কিন্তু কৃষ্ণনগর তৃণমূল এর ভিতর এ নিয়ে মতান্তর দেখা দেয়। একটা বড় অংশ তা চায়নি। কারণ এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের শিবদাস মুখোপাধ্যায় দাঁড়ান। তিনি এই আসন থেকে সরবেন না। ফলে তলে তলে জুলুবাবুর স্ত্রী দাঁড়ালে হারানোর একটা চক্র সক্রিয় হয়ে গেল। জুলুবাবুর কাছে বিষয়টি বললাম। তিনি শুনে বিশ্বাস করলেন না। বললেন আমাকে এত ভোটে জেতালো ওখানকার মানুষ। সেখানে এমন হবে না । ওখানে ম্যাডামকে দাঁড় করাবো। এরপর ফোন নম্বর জোগাড় করে ম্যাডামকে বোঝালাম। আপনি এখানে দাঁড়ালে হারবেন।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

তাতে আপনার ও মন্ত্রী হিসেবে জুলুবাবুর অসম্মান হবে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই প্রতিবেদকের কথা শুনে বুঝতে পারেন। তখন আর কেউ জেদাজেদি করেননি। পরিবর্তে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়ান। যদিও জিততে পারেননি। পরে একবার দেখা হয়েছিল। তখন ম্যাডাম ও জুলুবাবু উভয়ে আমার পরামর্শ সঠিক ছিল বলে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
নদীয়াতে পাগলাচন্ডীতে নদীর ধারে জুলুবাবুর বিশাল বড় আমবাগান সহ রাজপ্রাসাদ আছে। বিদেশের ধাঁচে তৈরি সেই প্রাসাদ। ভিতরে ঢুকলে চমকে যেতে হবে। তখন উনি মন্ত্রী। ওই সময় সার এর দাম কমানো ও কীভাবে তার নিয়ন্ত্রণ করলে কৃষকের উপকার হতে পারে। তার উপর একটি আলোচনা সভা ডাকা হয়েছিল কালীগঞ্জ এ। সেই অনুষ্ঠান এ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছি। মন্ত্রী হিসেবে জুলুবাবু এসেছেন সেখানে।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

ওঁনার সঙ্গে দেখা করে একটা কথা জানতে গিয়েছিলাম। উনি বললেন কোনও কথা বলবো না। কেন? উনি বললেন আমার পাগলাচন্ডী বাড়িতে যেতে হবে। ওখানে আমার সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে হবে। তারপর পর যা জানতে চাও। সব বলবো। আমি যেতে চাইলাম না। বললাম বাইরে কোথাও খাই না। উনি হাসতে হাসতে বললেন, আমি কি ছোট জাত, অচ্ছুৎ। তুমি আমার বাড়ি খাবে না। তাহলে তোমার জাত যাবে? এরপর ভয়ঙ্কর অস্বস্তিতে পড়লাম। এমনভাবে উনি বললেন। আসলে যেখানে সেখানে খাওয়া নিয়ে একটা সঙ্কোচ আছে। তাছাড়া ওই সময় জুলুবাবুর স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। ফলে আপত্তি করছিলাম।

লন্ডন ফেরত ব্যারিস্টার জুলুবাবুকে জেতানোর জন্য ভোট চাইতে কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

কিন্ত উনি যেভাবে কথা বললেন তাতে ওঁনার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতেই হল। মনে আছে জুলুবাবুর সেই নদীর ধারে প্রাসাদোপম বাড়িতে যাওয়ার পর খুব যত্ন করেছিলেন। সেদিন আমার মতো অখ্যাত নগণ্য একজন সাংবাদিক কে অতিথি আপ্যায়নে মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। এখন তাঁর মতো একজন চেনা মানুষ চিরদিনের মতো অচেনা জগতে চলে গেলেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই সব মধুর স্মৃতি ভিড় করে আসছে সামনে। একটাই কথা আপনি ভাল থাকুন সেই অচেনা কল্পলোকে।

Most Popular