Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeজেলাজামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

বান্টি মুখার্জি, ক্যানিং: দিদিকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল জামাইবাবুর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জামাইবাবুর শাস্তি চেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরেছিলেন পুলিশ-প্রশাসন থেকে আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার ও আদালতের প্রতি আস্থা হারিয়ে বিমর্ষ হয়েছিল মৃতের পরিবার। ভেবেছিলেন, অভিযুক্ত ছাড় পেয়ে যাবে। সত্যের জয় হবে না।

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

তবে প্রবাদে রয়েছে ‘সাগর কোন দিনও শুকায় না, মিথ্যা কোনও দিনই লুকোয় না’। সেই প্রবাদ মোল্লা পরিবারের কাছে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে অপরাধীর চরমতম সাজা ফাঁসি না হলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে আদালত। খুশি মোল্লা পরিবার। ঘটনার দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিল মোল্লা পরিবার।

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

সোনারপুর থানার অন্তর্গত মকরমপুরে বসবাস করতেন আক্কাচ মোল্লা। আক্কাচের প্রথম স্ত্রী থাকলেও ২৯ বছর আগে দ্বিতীয়বার আবার বিয়ে করে। পার্শ্ববর্তী রায়পুর গ্রামের কবিজান বিবিকে। দম্পতির সাত ছেলেমেয়ে। পেশায় শিউলির কাজ করতেন আক্কাচ। দিব্যি চলছিল সবকিছুই। মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হত। আভিযোগ, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারির রাতে গাছ কাটার ধারালো দা দিয়ে নৃশংস ভাবে নিজের স্ত্রীকে খুন করে আক্কাচ।

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

খুনের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।২৯ জানুয়ারি সকালে ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সোনারপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে, এই নৃশংস খুনের ঘটনায় সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার ভাই আসপার মোল্লা। ঘটনার তদন্তের দায় বর্তায় তৎকালীন সোনারপুর থানার এসআই শুভময় দাসের ওপর।

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

এদিকে, ঘটনার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলেও আসামি ধরা না পড়ায় বিমর্ষ হয়ে পড়েন মৃতার পরিবারের লোকজন। আস্থা হারিয়ে ফেলে পুলিশের ওপর।­ অন্যদিকে, দুঁদে তদন্তকারী অফিসার শুভময় দাস গোপন সুত্রে অভিযুক্তের খোঁজ পেয়ে যায়। সোনারপুর থানার পুলিশ ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর অভিযুক্তকে বরানগরের কামারহাটি থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তকে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
চলতে থাকে বিচার প্রক্রিয়া। এদিকে বিচার প্রক্রিয়া সাত বছর চলতে থাকায় মৃতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর আস্থা ভরসা হারিয়ে ফেলেন।

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

মৃতার ভাই আসপার জানান, যেভাবে বিচার প্রক্রিয়া চলছিল, তাতে করে ভেঙে পড়ি। ভেবেছিলাম অভিযুক্ত ছাড়া পেয়ে যাবে। দিদির মৃত্যুর বিচার পাবে না। অবশেষে চলতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করে। আমরা খুশি। যে তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করেছিলেন, তাঁর ওপর আস্থা ভরসা হারিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আইন বলে যে কিছু রয়েছে, তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন।

জামাইবাবুর যাবজ্জীবনে পুলিশের ভূমিকায় খুশি নিহতের পরিবার

প্রকৃত দোষীরা আইনের চোখে ছাড় পায় না।সেই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সোনারপুর থানার তৎকালীন তদন্তকারী অফিসার শুভময় দাস। ওনাকে স্যালুট।
অন্যদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে তৎকালীন সোনারপুর থানার তদন্তকারী অফিসার (বর্তমানে মুর্শিদাবাদের কান্দি থানায় পোস্টিং) শুভময় দাস জানান, আইন আইনের পথে চলেছে। আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি।

Most Popular