Saturday, April 13, 2024
spot_img
Homeরাজ্য'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

‘আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে’, কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

স্টাফ রিপোর্টার : পঞ্চায়তে নির্বাচনে কোন দাদার ‘তল্পিবাহক’ হয়ে টিকিট মিলবে না। মানুষ যাদের সার্টিফিকেট দেবেন তাঁরাই টিকিট পাবেন। শনিবার কেশপুর সভা থেকে দলীয় কর্মীদের এমন বার্তাই দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।কেশপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। দলের অন্দরের খবর, নেতাদের ব্যক্তিগত রেষারেষির জেরে ক্ষতি হচ্ছে তৃণমূলের সংগঠনের। যদিও এদিন মঞ্চ থেকে অভিষেকের দাবি, দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। তাঁর কথায়, “দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলে আজকের সভায় এত লোক আসত না।”

'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

তবে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলকে ব্যবহার করা যাবে না বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “তিন-চারটে নেতার রেষারেষির জন্য দল দুর্বল হলে কাউকে ছেড়ে কথা বলবা না। সময় দিচ্ছি শুধরে যান না হলে এমন ওষুধ প্রয়োগ করব যে শোধরানোর সময় পাবেন না।”কে কোথায় কী কাজ করছেন, কী করছেন না, কোন প্রধান কী কাজ করছেন, কোন অঞ্চল সভাপতি কী কাজ করছেন, সে সমস্ত খবর অভিষেকের কাছে। এই দাবি করে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘‘কেশপুরে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরা জানেন, কে সিপিএম, কে বিজেপি, কে তৃণমূল।

'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

কে মানুষের পাশে ছিল, কে ছিল না। যাঁরা ভাবছেন যে, তৃণমূলকে ভুল বুঝিয়ে নির্বাচনের সময় এক কাজ করব, আর নির্বাচন পরে আবার জামা পাল্টে তৃণমূল হয়ে তৃণমূলের চোখে ধুলো দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে যা ইচ্ছা তাই করব। সকলের উপরে একটা অদৃশ্য চোখ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবাইকে সচেতন করে দিয়ে যাচ্ছি। পাহারাদারির দায়িত্বে আমি।’’ পঞ্চায়েতে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘এখন থেকে বলা শুরু হয়েছে পঞ্চায়েতে আমি প্রার্থী দেব।’’

'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতে প্রার্থী দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি প্রতিটি জনসভায় বলেছি, মানুষ তৃণমূলকে যে ভাবে দেখতে চায় আমরা সে ভাবে তৃণমূলকে তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। যাঁকে মানুষ শংসাপত্র দেবে তিনি প্রার্থী হবেন। কোনও দাদার তল্পিবাহক হয়ে প্রার্থী হওয়া যাবে না। কারণ পাহারাদারের নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি আগে ছিলাম না।’’

'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

তাঁর কথায়, ”যারা ৫ বছর ঢেলে মানুষের জন্য কাজ করবে, তারাই পঞ্চায়েতের প্রার্থী হবে। মানুষ সার্টিফিকেট দিলে তবেই মিলবে টিকিট। যারা তা করবে না, তাদের জন্য ব্যবস্থা নেবে দল।” শুধু তাই নয় করা টিকিট পাবেন তার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিন জনকে মঞ্চে তুলে আনেন তিনি। যাঁরা নিজেদের বাড়ির খারাপ অবস্থা সত্ত্বেও আবাস যোজনার বাড়ি নেন নি।মঞ্চে তিনি শেখ হসিনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে তুলে আনেন, যিনি তৃণমূল দল করেন না।

'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

তাঁর কাঁচা বাড়ির ছবি দেখিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ ইনি নিজের বাড়ির খারাপ অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও আবাস যোজনার বাড়ি নেন নি।’ অভিষেক ,তাঁর কাছে কারণ জানতে চান। উত্তরে হসিনুদ্দিন বলনে, আবাস যোজনায় যে টাকা তিনি পেতেন তাতে তাঁর প্রয়োজনীয় পাকা বাড়ি করা সম্ভব ছিল না। তার জন্য আরও তিন লাখ টাকা দিতে হতো। সেই টাকা দিলে তিনি মেয়ের বিয়ের দিতে পারতেন না।

'আমিই পাহারাদার, অদৃশ্য চোখ সকলের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে', কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের

তাই তিনি আবাস যোজনার টাকা নেন নি।এর পর তাঁর হাত তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ‘ আগামী দিনে এ রকম মানুষরাই আমাদের পঞ্চায়েতের মুখ হতে চলেছে।’ হসিনুদ্দিনের মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেন তিনি।

Most Popular