কলকাতাখবর

এখনও কন্যাশ্রী পেলাম না কেন? মাঝ বয়সী বিধবা মহিলার এই প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন সাতগাছিয়ার বিধায়ক

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: পড়শিদের অনেকে কন্যাশ্রী পেয়েছে। কিন্তু আমি এখনও কন্যাশ্রী পাইনি। কেন ? বৃহস্পতিবার পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া এক বিধবা মহিলার মুখে এমন অবান্তর প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন সাতগাছিয়ার বিধায়ক মোহন চন্দ্র নস্কর। বজবজ দু নম্বর ব্লকের চকমাণিক গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় এক বাড়ির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মোহনবাবুকে এর উত্তর দেওয়ার জন্য এক মিনিট ভাবতে হল। কারণ দিদির সুরক্ষা কবচের ভিতর এই কন্যাশ্রী প্রকল্প রয়েছে।

ফলে বিধায়ক যখন ওই বিধবা মহিলাকে দিদির সুরক্ষা কবচের আওতায় কি কি সুবিধা সরকার দিয়েছে। তা বলার সময় ওই মহিলা এমন প্রশ্ন তোলেন। বিধায়ক বুঝলেন, মহিলা কোন কোন প্রকল্প কারা পেতে পারে সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন । ফলে খুব শান্ত ভাবে মোহনবাবু ওই বিধবা মহিলাকে বিষয়টি বোঝালেন। বললেন, আপনার নাতনি আছে। কোন ক্লাসে পড়ে? মহিলা বললেন নবম শ্রেণির ছাত্রী।

কিন্তু তার সঙ্গে আমার কন্যাশ্রী না পাওয়ার কি সম্পর্ক আছে? পাল্টা এই প্রশ্নকেও ঠান্ডা মাথায় সামলালেন তিনি। বললেন, কন্যাশ্রী হল স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের জন্য। আপনি কি এখন কোনও স্কুল ও কলেজের পড়েন? মহিলা এবার লজ্জা পেয়ে গেলেন। গলার সুর নামিয়ে বললেন আমাদের কি সেই বয়স আছে। তিনকাল পেরিয়ে শেষের দিকে চলেছি। তবে আমার নাতনি পড়ে। বিধায়ক এবার বললেন আপনার নাতনি তাহলে কন্যাশ্রী পেয়েছে নিশ্চয়ই।

ওকে ডেকে জেনে নিন। মহিলা বললেন ডাকতে হবে না। নাতনি পাচ্ছে। বিধায়ক এবার জানতে চাইলেন আপনি বিধবা ভাতা পাচ্ছেন তো? মহিলা ঘাড় নাড়লেন। তাহলে আপনি সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। এবার মহিলা হেসে ফেললেন। এইভাবে এক একটা পাড়ায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে টক ঝাল মিষ্টি র মতো প্রশ্নের মোকাবিলা র পাশাপাশি তা সামাল দিলেন।
এদিন সকাল দশটার সময় মুচিসা কালীবাড়ি থেকে দিদির সুরক্ষা কবচের কর্মসূচীর সূচনা করেন বিধায়ক। তাঁর সঙ্গে দলের পদাধিকারীদের অনেকে অংশ নেন।

পায়ে হেঁটে হেঁটে তাঁরা দুয়ারে দুয়ারে যান। দুপুরে একটি জায়গাতে দলীয় ব্যবস্হাপনায় খাওয়ার আয়োজন হয়। সেখানে মোহনবাবু ও অন্যরা ভাত ডাল ও সব্জি খেয়ে ফের হাঁটা শুরু করেন। বেলা তিনটের সময় চকমাণিক গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে প্রধান রঞ্জিতা সর্দারের মুখোমুখি হন। প্রধানের কাজ করতে গিয়ে কি কি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাও বিশদে জেনে নেন।বিধায়ক বলেন, অধিকাংশ মানুষই জানিয়েছেন তাঁরা দিদির সুরক্ষা কবচের আওতায় সব সুবিধা পাচ্ছেন।

তবে আবাস যোজনা নিয়ে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। কার ও ঘর দরকার। কারও টালি ছাওয়া। তিনি এবার ঢালাই দিতে চান। অনেক গরীব মানুষের বি পি এল তালিকা থেকে নাম উড়ে গিয়েছে। ফলে ঘরের সুবিধা পাচ্ছে না। কীভাবে এটা হল বোঝা যাচ্ছে না। আসলে কেন্দ্রীয় সরকার বিপিএল তালিকা তৈরি করে। এটা সেখান থেকে হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দুটো সমস্যা সামনে এনেছেন।

তা হল এক- ঘর নিয়ে। দুই- একশো দিনের কাজ করেও এখন অনেকে টাকা পাননি। ফলে খুব অসুবিধার ভিতর রয়েছেন। বিধায়কের কথায় এদিনের এই কর্মসূচি সরাসরি লাইভ হচ্ছে। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে এটা দেখছে। এরপর দিদির দূত এসে বাড়ি বাড়ি যাবেন। ফলে আমাদের কোথাও ফাঁকি দেওয়ার অবকাশ নেই।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!