Tuesday, April 16, 2024
spot_img
Homeজেলাতটভূমিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তীর্থযাত্রী, উদ্ধার করলেন যেন স্বয়ং কপিল মুনি

তটভূমিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তীর্থযাত্রী, উদ্ধার করলেন যেন স্বয়ং কপিল মুনি

সুদীপ্ত সামন্ত, গঙ্গাসাগর : সাগর তটে দাঁড়িয়ে কাঁদছে পাঁচজন মহিলা তীর্থযাত্রী। এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যে প্রথমবার পা রেখেছেন কপিলমুনির তীর্থক্ষেত্রে। কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন কিছুই জানেন না তাঁরা। এমন সময় স্বয়ং কপিল মুনি যেন দূত হিসেবে এক যুবককে তাঁদের কাছে পাঠালেন। তারপর সমস্ত সংকট যেন সাগরের জলরাশির সাথে অতল তলে তলিয়ে গেল।বীণা কুমারী, রজু দেবী, সরলা দেবী, লক্ষ্মী কুমারী এবং সাবিত্রী দেবী দিল্লির অশোক নগরের বাসিন্দা। প্রত্যেকেরই বয়স ষাটের কোটা পেরিয়েছে। সরলা দেবীর বয়স অবশ্য সত্তর ছুঁই ছুঁই। তাই পাঁচ বন্ধু মিলে তীর্থস্থান ভ্রমণে বেরিয়েছেন।

তটভূমিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তীর্থযাত্রী, উদ্ধার করলেন যেন স্বয়ং কপিল মুনি

উত্তরাখণ্ডের চার ধাম যাত্রা শেষ করে পুরী ধাম হয়ে গত বৃহস্পতিবার গঙ্গাসাগর পৌঁছান তাঁরা। বাড়ীর বোড়োদের মুখে শুনেছিলেন,’সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার।’ আর সেই তীর্থযাত্রা অনেক কষ্টের, অনেকটাই দুর্গম ঠিকযেন ‘পাতালঘর’ পৌঁছনোর মতো।এই কাহিনীই তাঁদের কৌতূহল আর ভ্রমণের নেশাকে আরো উদ্দীপনা জোগায়। কিন্তু সাগরতটে পৌঁছে দিশেহারা হয়ে পড়েন পাঁচ বন্ধু। রাত্রিযাপনের সন্ধানে মেলার স্বেচ্ছাসেবক, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকেও তেমন কোন সাহায্য মেলেনি।

তটভূমিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তীর্থযাত্রী, উদ্ধার করলেন যেন স্বয়ং কপিল মুনি

প্রায় চার ঘন্টা এদিক ওদিক ঘোরার পর শেষে সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন আর স্মরণ করেন ভগবান নারায়ণকে। এমন সময় হটাৎ এক স্থনীয় যুবা, ডাক নাম তাঁর লালু তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান ও সমস্যা জানতে চান। তটের মধ্যে দাঁড়িয়ে পাঁচ মহিলা, দিল্লির অপরাধের ঘটনাগুলো বারবার মনে পড়ছে। তারমাঝে এ এক নতুন রাজ্য, সেখানে আবার এক অপরিচিত ব্যক্তি সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। প্রথমে খানিকটা ইতস্তত হলেও লালু বাবুর মুখে ‘মা-জী’ সম্বোধন শুনে ভরসা পান তাঁরা

তটভূমিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তীর্থযাত্রী, উদ্ধার করলেন যেন স্বয়ং কপিল মুনি

কপিলমুনির তীর্থক্ষেত্রে সবার মধ্যেই যেন এক মানবিকতার আধার রয়েছে। নারায়ন যেন মানুষ রূপে সবসময়ই সবার পাশে রয়েছে। বীণাদেবীদের কাছে লালুবাবু তখন ‘নারায়ন’, পরে তিনি হয়ে যান তাঁদের বাংলার নতুন ভাই। তাঁর হাত ধরেই বীণা দেবীরা পৌঁছান এক বেসরকারি সংস্থা বীর অভিমন্যু স্পোর্টিং ক্লাবে। ক্লাবের সভাপতি বিষ্ণু সাড়াওগে তাঁদের আতিথেয়তা আর সুরক্ষায় কোন ত্রুটি হতে দেননি। সরলা দেবী কিছু অর্থের কথা জিজ্ঞেস করলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জিভ কেটে জানায়, তাঁদের কাছে ‘সেবাই পরম ধর্ম।’

তটভূমিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তীর্থযাত্রী, উদ্ধার করলেন যেন স্বয়ং কপিল মুনি

মেলা সম্পর্কে অবশ্য পূর্বপুরুষের মুখে যা শুনেছিলেন তা পাল্টে গিয়েছে বলে বিশ্বাস করেন বীণা দেবীরা। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত পরিষেবার দরুন তেমন কোন অসুবিধা হয়নি, চারিদিকে আলোর রোশনাই, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সমাগম আর মা গঙ্গার আশীর্বাদে কপিল মুনির দর্শন যেন সেই পুরোনো গল্পকে শুধুই রূপকথার রূপ দিচ্ছে। সরলা দেবী বীণা দেবীর সাথেই বলে ওঠেন,’তটে দাঁড়িয়ে ভয় পাওয়াও যেন ভগবানের এক লীলা। কিন্তু অবশেষে এই ক্লাবের পরিষেবা আর পবিত্র তটভূমিতে দুই দিনের এই সফরে আমরা তৃপ্ত। ধন্য হলো আমাদের এই যাত্রা, পুণ্যস্নানে ধন্য আমরা।’

Most Popular