Friday, July 19, 2024
spot_img
spot_img
Homeকলকাতাশহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

রাজকুমার সূত্রধর কলকাতা ঃ পথচলতি মানুষকে জলতেষ্টা থেকে রেহাই দিতে শহরের রাজপথে বা অলিগলিতে তৈরি হয়েছে একাধিক জলের কিয়স্ক। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোক বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ, যত্রতত্র এই কিয়স্ক বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ আদৌ সঠিক সময় হয় তো ? যে ফিল্টারগুলি এই কিয়স্ক এ লাগানো হয়েছে, সেগুলি শেষ কবে বদলানো হয়েছে? যে জল পরিশ্রুত হিসাবে ওই কিয়স্ক থেকে পান করা হয়, তা আদৌ সুরক্ষিত তো? এবার এই প্রশ্নগুলি উঠতে শুরু করে দিল।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল জনপ্রতিনিধি পারমিতা চট্টোপাধ্যায় এই কিয়স্ক গুলির বেহাল অবস্থার বিষয়টি জল-সরবরাহ বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নজরে আনেন। অপর মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস কুমার নিজেও এই বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সামনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে কোথায় কতগুলি কিয়স্ক রয়েছে, তার কোনো সঠিক তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

কারণ এগুলি বসানোর ব্যাপারে কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে এতদিন কোনও অনুমতি নিতে হত না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে অনুমতি পেলেই রাস্তার ধারে হোক বা ফুটপাতের উপরে এই কিয়স্ক তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বড় বড় ফলকে সেই সব উদ্যোগীসংস্থা কিংবা ব্যক্তি নামের ফলক এঁটে সেগুলো শুধু আটকে দেওয়া হত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কোন হেলদোল ছিল না। এই পরিসরে কলকাতা পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগ কেন এতদিন এই বিষয়গুলোর উপর নজর দেয়নি এবার তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বহু মানুষ এই কিয়স্ক থেকে জল পান করে।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কোনভাবেই সুরক্ষিত নয় বলেই মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের কর্তারা কেন এই কিয়স্ক বসানোর ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম বিধি লাগু করেননি? অপরদিকে প্রশাসনের কর্তারাও বা কেন অবাধে এগুলি বসানোর বিষয়টি দেখেও না দেখে গিয়েছেন তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখা গেল, এই কিয়স্ক গুলির বেহাল ছবি। কোথাও ফিল্টার ভেঙে পড়েছে। কোথাও পাইপ গড়াগড়ি খাচ্ছে।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

কোথাও আবার এই কিয়স্ক থেকে জল স্বাভাবিকভাবেই পড়ছে কিন্তু সেটির ফিল্টার পাইপ কবে বদলানো হয়েছে, তা আশেপাশের কেউ জানেন না। এমনকি, ফিল্টার, পাম্প বা পাইপ না বদলানোর ছবিটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেই চেম্বারের গেট যে খোলা হয় না দিনের পর দিন, তা মরচে ধরা তালা এবং গেট দেখেই প্রমাণিত। বিষয়টি নজরে আসতেই যথেষ্ট অস্বস্তিতে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল প্রশাসনের কর্তারা। খোদ দলীয় প্রতিনিধি বা মেয়র পরিষদ সদস্য রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি ও এর বেহাল অবস্থা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তা রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে প্রশাসনের কর্তাদেরই।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

জল সরবরাহ বিভাগের কর্তারা জানাচ্ছেন, ফুটপাত এবং রাস্তার ধারে যে সব জায়গায় এই কিয়স্ক বসানো হচ্ছে, তার আশেপাশে জল সরবরাহের মূল পাইপলাইন থাকলেই চলে। সেই পাইপলাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে কিয়স্ক বসিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সেগুলির আদৌ সুরক্ষিত রয়েছে কিনা তা কেউ খতিয়ে দেখতে যায় না। মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই সমস্যা যে কতটা গুরুতর, তা বুঝতে পেরেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি যথেষ্ট অস্বস্তিকর তাও আঁচ করেছেন। যে কারণে তিনি জানিয়েছেন, এই কিয়স্ক এর ফিল্টার রক্ষণাবেক্ষণ না করায়, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা জল বিষে পরিণত হয়েছে।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

এই কিয়স্ক গুলির অধিকাংশ খারাপ। যেগুলি রয়েছে সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কিনা আমি জল সরবরাহ বিভাগের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি দেখার জন্য। যদি রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয় তাহলে ওই কিয়স্কগুলি বন্ধ করা র নির্দেশ দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন এবার থেকে এই ধরণের জলের কিয়স্ক বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে কিয়স্ক গুলি, এই ধরনের বক্তব্য সহ চুক্তিপত্র তৈরি করে তবেই অনুমতি দেওয়া হবে ।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

এই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা ওই কিয়স্ক বসাচ্ছে, তাদেরকে চুক্তিবদ্ধ করা হবে। এবার থেকে গোটা বিষয়টি কলকাতাপুরসভার র মেয়র পরিষদ সদস্য দেবাশিস কুমার কে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, এই ধরনের কিয়স্ক বসানোর ক্ষেত্রে কড়া বিধি চালু করা হবে। নইলে মানুষের পেটের রোগ বাড়বে।

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

অপরিশোধিত জল খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফিল্টার এবং পাইপ বদল করা হচ্ছে কিনা তা প্রয়োজনের অডিট করতে হবে।যদিও এত কিছুর পড়ে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমানে যে কিয়স্ক গুলি রয়েছে, সেগুলির ফিল্টার কি আদৌ বদল করার কোনও ভূমিকা নেবে কলকাতা পুর প্রশাসন। নাকি নাম কা ওয়াস্তে শুধু গর্জন করে ছেড়ে দেবে?

শহরের যত্রতত্র বসানো জলের কিয়স্ক থেকে সাবধান

যাদের উদ্যোগে এগুলি বসেছে তাদের কি প্রশাসন বলবে ফিল্টার এবং পাইপ গুলোকে বদলে পরিস্রুত জল বেরোচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করতে? নাকি যাবতীয় সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র খাতায় কলমের হয়ে যাবে। প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। ফলে এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শহর জুড়ে বসানো কিয়স্কের জল থেকে সাবধান।

Html code here! Replace this with any non empty raw html code and that's it.

Most Popular

error: Content is protected !!